২য় সংখ্যা


ওরাও তো সুন্দর জীবন চেয়েছিল

সাইফ শোভন

গত ২১ অক্টোবর ২০২৩ ইং শনিবার কমালাপুরের কতিপয় দামাল দরিদ্র শিশু-কিশোরদের সাক্ষাৎকার নিই আমি আর হান্নান চৌধুরী। সাক্ষাৎকারের বিষয় ছিল ওদের জীবন সংগ্রাম। কমলাপুর রেল স্টেশন ঘিরে ওদের সংগ্রামী জীবন। কেউ মাথায় করে ব্যাগ, স্যুটকেস বহন করে, আবার কেউ যাত্রীদের কাছে টাকা পয়সা খাবার চেয়ে থাকে। সকলের বয়স ১৫ এর নীচে। কথা হলো ওদের সাথে। নাম রনি বয়স ১২, নুর মোহাম্মদ বয়স ১৩, আবু সাইদ বয়স ১৩, রতন বয়স ৮, আবির বয়স ১১ । সকলে রাত্রে স্টেশনেই ঘুমায়। রনি বরিশাল আর অন্যরা বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে। পড়াশুনার কথা জিজ্ঞেস করলে বলে, মা বাবার সাথে তাদের যোগাযোগ নেই। কেউ পঞ্চম আবার কেউ তদূর্ধ্ব ক্লাশ পর্যন্ত পড়েছে। কেউ তাদের খোঁজ রাখে না। বাবা মার সাথে বিচ্ছেদের পর থেকে কেউই আর পড়েনি। দুবেলা খাবার জোটে না বলে বাবা মা’ রা তাদের সাথে আর যোগাযোগ রাখে না। খেলাঘর জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন দরিদ্র শিশু কিশোরদের খোঁজ খবর রাখা সংগঠনের কার্যতালিকায় পড়ে। আর তাই আমি আর হান্নান ভাই যাই তাদের খোঁজ খবর নিতে। ওরা খাবার চেয়েছিল আর তাই আমরা সিংগারা, বিস্কুট নিয়ে ওদেরকে দিই, ওরা খুব খুশি মনে সেগুলো খেয়েছিল। রনি নিজের নাম লিখতে পারে। ও বলে পড়াশুনা করতে পারিনি টাকার অভাবে। বলি, অনেক এনজিও আছে যারা বিনা খরচে পড়াশুনা করিয়ে থাকে। আবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বিনা পয়সায় পড়িয়ে থাকে। বললে বলে পেটের দায়ে লেখাপড়া করা হয় নাই। পরে ওদের নিয়ে বেশ কিছু ছবি তোলা হয়। জনাব রফিকুন্নবী (চিত্রশিল্পী) এই পথশিশুদের নাম দিয়েছেন টোকাই। জনাব রনবী’র (রফিকুন্নবী) দেওয়া টোকাই নামটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে বলেন অনেকে। কিন্তু ওরা কি টোকাই হওয়ার জন্যেই পৃথিবীতে এসেছে। ওদের কি ভবিষ্যত বলতে কিছু নেই।

ওরাও তো সুন্দর জীবন চেয়েছিল, ঘুনেধরা এ পুঁজিবাদী সমাজে ওদের দায়িত্ব নেয়ার কি কেউ নেই! কবে আসবে সমাজতন্ত্র যেখানে রাষ্ট্রই ওদের দায়িত্ব নেবে, মৌলিক চাহিদা পূরন করবে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরন হলেই ওরা সুন্দর জীবন পেতে পারে। কিছুদিন আগে এক জরিপে দেখা গিয়েছে দেশে প্রায় ১০ লক্ষ পথশিশু রয়েছে যাদের থাকা খাওয়ার কোনো সংস্থান নেই। ওরা ওই শিশু কিশোর বয়সে ভারী কাজ করে, আবার কাজ না পেয়ে অনেকে বিপথে পরিচালিত হয়। নেশা মাদক এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এবং অনৈতিক সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ে। আর তাই সময় এসেছে দায়িত্ব নেয়ার। খেলাঘর আন্দোলনে যুক্ত হোক ওইসব পথ শিশুরা। সমাজের ভাগ্যবান শিশু কিশোরদের সাথে ওরাও কাধে কাধ মিলিয়ে ভালো মানুষ হোক এই হোক খেলাঘর এর অংগিকার। সদ্যপ্রয়াত খেলাঘর এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সার এর দেখে না যাওয়া যেন বৃথা না হয়, এবং ওনার আশা আকাঙ্ক্যা যেন বাস্তবে রূপ নেয়। তাই হোক আজকের খেলাঘর আগামীর বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নুতন প্রজন্ম গড়ে তোলার যে শ্লোগান, তা যেন বাস্তবে রূপ পায়।

পান্না ভাবীর প্রয়াণ

৪ আগস্ট, ২০২৩ শুক্রবার মনি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট সেমিনার কক্ষে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহবান করা হয়েছিল সকাল ১০টায়। সারাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই সেদিন উপস্থিত হয়েছিলেন। আমরা সবাই আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিলাম চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সারের জন্যে। তিনি আসলেই সভা শুরু করা যাবে। এমন সময় মোবাইলে কল এলো শমী কায়সারের কন্ঠে – মা পান্না কায়সার আর নেই। সাধারণ সম্পাদক বাকরূদ্ধ কণ্ঠে সবাইকে জানালেন এই শোক সংবাদ। সবাই গভীর শোকে ও সমবেদনায় আপ্লুত হয়ে গেলেন। সভায় গভীর শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হলো। বেশ কয়েকজন সংগঠক পান্না ভাবীকে নিয়ে নিজ নিজ আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়াত পান্না কায়সারকে যথাযোগ্য মর্যাদায় শেষ বিদায় জানাবার কর্মসূচি প্রণয়নের নির্দেশ- না ঠিক করে সবাই তাঁর নিউ ইস্কাটনের বাসায় চলে গেলেন।সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর লাশ এলো। ইতিমধ্যে বাসা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠল। খেলাঘরের পক্ষ থেকে খেলাঘর পতাকা দিয়ে কফিন ঢেকে দিয়ে পুস্পস্তবক প্রদান করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল খেলাঘর সংগঠকেরা। ঐদিন বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হলো মরদেহ। ৬ আগস্ট, ২০২৩ রবিবার সকাল ১১টায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে পান্না কায়সারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে রাখা হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যে।

প্রথমেই কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভাই-বোনদের একটি টীম যথাযোগ্য মর্যাদায় কফিন ঢেকে দিল খেলাঘর পতাকা দিয়ে। শিশু-কিশোরেরা পরম শ্রদ্ধায় লাল স্কার্ফ পরিয়ে দিল কফিনে এবং সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার প্রদান করল প্রয়াত অধ্যাপক পান্না কায়সারকে। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শাখা আসরের ভাই-বোনেরা সারিবদ্ধভাবে ফুলে ফুলে ঢেকে দিল তাদের প্রিয় পান্না কায়সারের মরদেহ। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের সংগঠকরা পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। একইদিন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে প্রয়াত অধ্যাপক পান্না কায়সারকে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সকল জায়গায় খেলাঘর সংগঠকরা সক্রিয় ভুমিকা পালন করে শেষ বিদায় জানায়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ শুক্রবার বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর প্রয়াত চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সারের প্রয়াণে বাংলা একাডেমীর আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়। খেলাঘর ঢাকা মহানগরীর শাখা আসরের ভাই-বোনেরা অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে এই শোকসভায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও সর্বভারতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সবপেয়েছির আসরের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট অপরেশ মজুমদার ও শিক্ষণ সচিব তরুণ চক্রবর্তী ভারত থেকে সরাসরি বাংলা একাডেমীতে উপস্থিত হয়ে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সর্বভারতীয় শিশু কিশোর সংগঠনের ভাইবোন ও সংগঠকদের পক্ষ থেকে শোকবার্তা পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আপরেশ মজুমদার। শোকবার্তাটি গ্রহন করেন ডাঃ মাখদুমা নার্গিস রত্না। শিশুদের কন্ঠে আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে গানের মাধ্যমে শোকসভা
শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না। প্রথমেই প্রয়াত পান্না কায়সারের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করে ছোটবোন রদৌসী। শিশুদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করে অব্যয়। কিছুক্ষণের মধ্যে মিলনায়তনটি পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। এতে উপস্থিত হন দেশের প্রজ্ঞাবান মেধাবী বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা। যাদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, বিশিষ্ট কবি বাংলা একাডেমীর মহা পরিচালক কবি মোহাম্মদ নুরুল হুদা, রাজনীতিক কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী , বিশিষ্ট প্রকাশক ওসমান গনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম ঝরা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, সবপেয়েছির আসরের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট অপরেশ মজুমদার, সবপেয়েছি আসরের শিক্ষণ সচিব তরুণ চক্রবর্তী, শমি কায়সার, অমিতাভ কায়সার, উদীচীর মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিতরঞ্জন দে প্রমুখ। সঞ্চালনার দ্বায়িত্বে ছিলেন প্রণয় সাহা ও আব্দুল মতিন ভূইয়া। অনুষ্ঠানের
শুরুতে পান্না কায়সারের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকল খেলাঘর শিশু-কিশোর ভাই-বোন ও কর্মী সংগঠকেরা কালো ব্যাজ ধারণ করে। এ উপলক্ষে তার জীবনী নিয়ে একটি বুকলেট প্রকাশ করা হয়। সারাদেশে বিভিন্ন জেলা ও আঞ্চলিক কমিটি এবং আসর যথাযোগ্য মর্যাদায় শোকসভার আয়োজন করে। তাদের মধ্যে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, গাজীপুর জেলা, ফরিদপুর জেলা, নোয়াখালী জেলা, বরগুনা জেলা, রাজশাহী জেলা, নোয়াখালী জেলার মল্লিকা খেলাঘর আসর, চট্টগ্রামের মৈত্রী খেলাঘর আসর, পিরোজপুর জেলার কাউখালি আঞ্চলিক কমিটি, উত্তরায়ন খেলাঘর আসর ও সুর্যোদয় খেলাঘর আসর, মানিকগঞ্জের নবালয় খেলাঘর আসর, খেলাঘর চট্টগ্রাম
মহানগরী কমিটি ও খেলাঘর নোয়াখালী জেলা কমিটি।

সব পেয়েছির আসরের ৬৪তম ক্যাম্পের স্মৃতি অম্লান

হান্নান চৌধুরী

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হান্নান চৌধুরী।

পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র জীব যাদের স্মৃতি বা বিস্মৃতি জীবনের কর্মচাঞ্চল্যের ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যায় না, তেমনি সবপেয়েছির আসরের ক্যাম্পের স্মৃতি আমার জীবনে ভাস্বর হয়ে থাকবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সবপেয়েছির আসরের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালনায় এবং দীক্ষা সবপেয়েছির আসরের ব্যবস্থাপনায় পশ্চিম বঙ্গের বীরভূম জেলার মল্লারপুর হাই স্কুলের ক্যাম্পাসে ৬৪তম বার্ষিক আন্তর্জাতিক শিক্ষাশিবির -এর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের একটি শিশু-কিশোর প্রতিনিধিদল ভারতের সবপেয়েছির আসরের ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করুক এটা আয়োজক কমিটির একান্তভাবে চাওয়া ও প্রত্যাশা। যেন দুই বাংলার ভাইবোনেরা একই বৃন্তে দুটো ফুল একসূত্রে মালা গাঁথা। রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে দুই বাংলার মধ্যখানে সীমারেখা থাকলেও উভয় বাংলার মানুষদের সংস্কৃতি এবং আচার আচরণের ধরন একই সূত্রে গাঁথা। এই দৃঢ় বন্ধনকে অটুট রাখার ধারাবাহিকতায় আমরা বাংলাদেশের খেলাঘরের পক্ষ থেকে ১৩সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলের টীম লিডার ছিলেন হান্নান চৌধুরী, ডেপুটি টিম লিডার ছিলেন প্রবীর সাহা, গোবিন্দ বাগচী, ও মুক্তারানী ঠাকুর। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ছিলেন শাহানা ফেরদৌসী লাকী (ঢাকা), শামীম শিকদার (ঢাকা), কুলসুম আক্তার (ঢাকা), অর্নামনি মজুমদার (ঢাকা), এরিচনা আক্তার (ঢাকা), জারিন তাসনিম রাইসা (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া), সুস্মিতা আহমেদ (খুলনা), চন্দ্রিমা বনিক (বি. বাড়ীয়া), শেখ তামিম মজিদ (খুলনা)।

সবপেয়েছির আসরের ক্যাম্প শুরু হয় ২৪শে ডিসেম্বর থেকে ৩০শে ডিসেম্বর ২৩ পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশসহ প্রায় সাড়ে ৬ শতাধিক শিশু-কিশোর ও প্রশিক্ষক অংশগ্রহণ করে। আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ২২শে ডিসেম্বর ‘২৩ রাত বারোটায় সোহাগ পরিবহনে করে ভোর ৫টায় বেনাপোল চেক পোষ্টে পৌঁছাই। ভোর ৬-৩০মি: থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের চেকপোষ্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বর্ডার পার হয়ে গেলে সবপেয়েছির আসরের নদীয়া অঞ্চলের সংগঠক শিবু দা আমাদের টিমকে অভ্যর্থনা জানান। অত:পর সকালের নাস্তা সেরে দুপুরে শিবু দা আমাদের সঙ্গে নিয়ে বনগাঁও রেল ষ্টেশনে যান। কিছু সময় অপেক্ষা করার পর ট্রেন যোগে কলিকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে যাই বিকাল ৪-৩০ মি:। ট্রেনে যতটুকু সময় ছিলাম পুরো সময়টা সবাই মিলে গান গেয়েছি আনন্দ করেছি।

বিকাল ৫টায় শিয়ালদহ থেকে ট্যাডি করে বেহালার শিশু কিশোরদের জন্যে ঐতিহ্যবাহী স্থান আদর্শ পল্লীতে নিয়ে যান। ঐদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ ও ইয়ংস এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ভাই- বোনেরা পরিদর্শন করে এবং সবশেষে রাত ৯টার দিকে তাৎক্ষনিক আমাদের টীমকে সংবর্ধনা দেয় বিজ্ঞান মেলার আয়োজক কমিটি নেতৃবৃন্দ।

পরের দিন ২৪শে ডিসেম্বর সকাল ৯টায় বাসযোগে বাংলাদেশের টীম এবং সবপেয়েছির আসরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ একসঙ্গে বীরভূম জেলার তারাপিঠে পৌঁছানোর পর দীক্ষা সবপেয়েছির আসরের সংগঠকরা বাস যোগে ১৫কি.মি. দুরে মল্লারপুর দীক্ষা সব পেয়েছির অফিসের সামনে

নিয়ে যায়। তখনই সবাইকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অতঃপর দীক্ষার নিজস্ব কার্যালয়ের ৪ তলা ছিল আমাদের থাকার স্থান। আমাদের থাকার স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে ছিল ক্যাম্পের মাঠ ও শিশু-কিশোরদের আবাসন। ক্যাম্পের প্রতিদিনের কর্মসুচী ছিল সকাল ৬-৩০ মি. প্রশিক্ষণ মাঠে অংশ নেয়া, দুই দেশের পতাকা উত্তোলন, শারীরিক ব্যায়াম, সকালের নাস্তা, কুচকাওয়াজ, বিশেষ খেলাধূলা ও নৃত্যের প্রশিক্ষণ, পতাকা নামানো, বৈকালীন নাস্তা।

সন্ধ্যার পর সকলকে নিয়ে শিবির জলসা শিবির জলসায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। মাঠের প্রতিটি কাজে অংশগ্রহণ করে। ২৫শে ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। বাংলাদেশের পক্ষে হান্নান চৌধুরী অতিথি হিসেবে মঞ্চে আসন নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিধায়ক অভিজিৎ রায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন শতাব্দী রায় এম.পি., অসীত কুমার খান এম.পি., কলিকাতা সিটি করপোরেশনের ডেপুটী মেয়র ড: আশীষ ব্যানার্জী, স্থানীয় পঞ্চায়েতের সভাপতি ধীরেন ব্যানার্জী। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের টীম ফিল্ড ডিসপ্লে করে। একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ক্যাম্পের সকল ভাইবোনদের নিয়ে শিশু প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ওখানে ভারতের পক্ষ থেকে অপূর্ব গাঙ্গুলী এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হান্নান চৌধুরীকে “শিশু সংগঠন কেন করবো” এ বিষয়ে সংগঠক প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে ১ দিন শিশু-কিশোর র‍্যালী হয়। আমরাও অংশগ্রহণ করি। ক্যাম্প সমাপনির পূর্বেরদিকে হিন্দু ধর্ম অবলম্বীদের তীর্থস্থান তারাপীঠ পার্কে নিয়ে যাওয়া হয় ৬ শতাধিক শিশু-কিশোরকে। সকল শিশু-কিশোর ভাইবোনরা সময়মত নিজস্ব প্লেট গ্লাস নিয়ে প্রতিবেলায় লাইন দিয়ে খাবার খেত। সত্যিই অপূর্ব মনে হতো তাদের ডিসিপ্লিন দেখে। প্রতিদিন ক্যাম্প সম্পর্কে যার যা লিখতে মন চায় তাই লিখতে পারবে কিন্তু শুধুমাত্র দেয়াল পত্রিকা হাতে লেখার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশ করা হতো।ক্যাম্পের বিভিন্ন গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে শিশু শিশোররা ২ ঘন্টা করে সিফটিং ডিউটি করে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে গাইড হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন সবপেয়েছির সংগঠক পুলক রঞ্জন দে, সত্যিই তার দায়িত্ব ও ব্যবহারে অভিভূত আমি। ক্যাম্প শেষে ৩১ডিসেম্বর বীরভূম থেকে নদীয়া যায় তাহিরপুরে ১ দিন অবস্থান এর পর নদীয়ার সব পেয়েছির সংগঠক পূর্বা দিদি ও শিবু দা আমাদের ২রা জানুয়ারি ‘২৪ বেনাপোল কাউন্টারে পৌঁছিয়ে বিদায় নেন। এবং রাত ৯ টার দিকে ঢাকায় ফিরে আসি।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য হান্নান চৌধুরী।ক্যাম্প থেকে শিশু-কিশোররা যা শিক্ষা পেল, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুব-ি র্ততা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্থ শরীর ও মন গঠনের শিক্ষা ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রীতি, ঐক্য ও সম্প্রীতির মনোভাব গড়ে তোলে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সজাগ এবং নিজের কাজ নিজে করার আত্মবিশ্বাস গড়া, সমতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার মনোভাব গড়ে তোলা।

ক্যাম্প সমাপনী দিনে অনেক শিশু-কিশোরদের কাঁদতে দেখেছি, অল্পদিনেই সমতা ও একতা থাকার যে আনন্দ তা হয়তো শেষ হয়ে গেল। আমাদের বুঝি শিশু বুকে জড়িয়ে ধরা, হয়তো আর কোনদিন দেখা হবে না। আমি সান্ত্বনা দিলাম, শিশুটিকে বললাম ফোন করবে। ক্যাম্প থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা যেন সকল শিশুরা শিক্ষা নেয় এটাই আমার প্রত্যাশা।

অভিনন্দন পাতাবাহার খেলাঘর আসর

পাতাবাহারের ৫০ বছর পূর্তি

গত ১২.০৯.২২ তারিখে শেরপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী শাখা আসর পাতাবাহার খেলাঘর আসরের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পাতাবাহার খেলাঘর আসরের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ দুলাল দে বিপ্লবের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। বর্ণাঢ্য র‍্যালী, পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃ-ি তক অনুষ্ঠান উৎসবকে রঙ্গীন করে তোলে। উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জনাব আতিকুর রহমান, প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জনাব কামাল চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্যএড, ইমাম হোসেন ঠান্ডু ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নন্দ সাহা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে

বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপিত

আনন্দঘন পরিবেশে খেলাঘর উদযাপন করলো বষ’বরণ অনুষ্ঠান১৪৩১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযরে সোপাজি’ত স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে। কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মাখদুমা নারগিস রত্না মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানবিক সমাজ গড় তোলার আহবান জানিযেেছন। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি মোহাম্মদ নূরুল হুদা বলেন খেলাঘর সংগঠন গ্রামেগঞ্জে ছড়ায় দিয় দেশে বাঙালি সংস্কৃতির জাগরণ সম্ভব হবে। ছড়াকার আখতার হুসেন শিশুদের নিজের সংস্কৃতি ভালবেসে জীবন গড়ার আহ্বান জানালেন। খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান সহিদের সভাপতিত্বে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জনাব কামাল চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা, বাংলা একাডেমির পরিচালক ড: শাহাদাৎ হোসেন, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা কামরল আহসান, কেন্দ্রীয খেলাঘর আসরের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক শরিফ আহম্মেদ, হান্নান চৌধুরী ও হাসান তারেক। এসো হে বৈশাখ গান এবং নৃত্যে পরিবেশনের মধ্যে মানবতার জয়গান গেয অনুষ্ঠানমালা শুরু করে খেলাঘরের শিশু কিশোর ভাইবোনরা। এরপর মঞ্চে আসেন অতিথি ও বক্তাগন। শুভকামনা ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর বিভিন্ন শাখা আসর নিজ নিজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। শাখা আসরের শিশু কিশোর ভাইবোনরা গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় পরিবেশন করে দশ’কদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহ সাধারণ সম্পাদক সুনীল সরকার ও সম্পাদক হাফিজুর রহমান মিন্টু। ব্যবস্হাপনায় ছিলেন সম্পাদক প্রবীর সাহা, গোবিন্দ বাগচি, অশোকেশ রায়, অনিকেত আচায’ সুজন মজুমদার, সংগঠক অরফিয়াস ইকবাল, সংগঠক সাইফ শোভন, মেঘলা, সামিনা জাহান, আদেল, রফিকুজ্জমান নয়ন ও তাপস চক্রবর্তী। অংশগ্রহণ করে; শ্যামল ছায়া, অদম্য, লাল সবুজ, ভাবুক, সোনামণি ও চন্দ্রালোক খেলাঘর আসরের ভাইবোনেরা।

অন্যান্য নিয়মিত অনুষ্ঠান

চাঁদপুরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

খেলাঘর চাঁদপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে গত ২৪ জুন, ২০২৩ এগিয়ে চলার ৭১ বছর উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের মাঝে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন শাখা আসর থেকে দুই শতাধিক শিশু-কিশোর ভাইবোনেরা সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নৃত্য প্রশিক্ষক আবু নাঈম এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষক শিল্পী সাহা। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সুধী সমাবেশ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব জনাব হাবিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মহোদয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা ও সদস্য মামুন মোরশেদ। চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি হাফেজ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শ্যামসুন্দর মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন মিসেস রুমা দাস, তপন সেন, অরুন চৌধুরী প্রমুখ। সবশেষে বিভিন্ন শাখা আসরের শিশু-কিশোরেরা মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর কপোত খেলাঘর আসর

চট্টগ্রাম মহানগরীর আওতাধীন কপোত খেলাঘর আসরের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক প্রবীর সাহা উপস্থিত ছিলেন। একইদিন দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে খেলাঘর কেন্দ্রীয় সম্পাদক প্রবীর সাহা খেলাঘর চট্টগাম মহানগরী কমিটির সভাপতি ডাঃ একিউএম সিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সাংবাদিক নাসির উদ্দিন, কবি আশীষ সেন, এডভোকেট শফিউল আলম, এম মোরশেদুল আলমের সাথে একটি সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

শহীদজায়া পান্না কায়সার স্মরণে চট্টগ্রামে সভা

লেখক, গবেষক, শিশু সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য শহীদজায়া পান্না কায়সারের স্মরণসভা হয়ে গেল চট্টগ্রামে।মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর এনাযতে বাজার মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি এ অনুষ্ঠানের আযােজন করে।পান্না কায়সার ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুলা কায়সারের স্ত্রী। তিনি অভিনেত্রী শমী কায়সারের মা। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন তিনি।শিশু কিশোরদের সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে আজীবন সক্রিয় ছিলেন পান্না কায়সার। ১৯৭৩ সাল থেকে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য। আর ১৯৯০ সালে এ সংগঠনের চেয়ারম্যানের দাযিত্বে আসেন।

খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না সভায় বলেন, অধ্যাপক পান্না কায়সার প্রগতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে, শিশুদের গডে তোলায় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনে ভূমিকা রেখেছেন। আজ আমাদের সাংস্কৃতিক প্রভাব কতটা আছে সমাজে? সাংস্কৃতিক জাগরণ হয়েছিল বলেই মুক্তিযুদ্ধের আগে রাজনৈতিক জাগরণ হয়েছিল।

পান্না কায়সারের স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তিনি যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, সাম্প্রদায়কি শক্তি আবার বাংলাদেশের বুকে ছোবল দিতে চাইছে। তাই অসাম্প্রদায়কি শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড় তুলতে হবে। কারণ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বিভিন্ন জায গায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হোঁচট খাচ্ছে।

এ থেকে বাঁচতে হলে আগামীর সৈনিক চাই। নতুন প্রজন্মই সত্যিকারের যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমনস্ক অসাম্প্রদায়কি মানুষ হবে। এজন্য শিক্ষা ও শাড়ি যেন শিশুদের জীবনের প্রতিপাদ্য হয়।

খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অত্যড় দুঃসময় আমরা আজ পার করছি। শিশুরা আজ সহিংসতার শিকার। নৃশংস পরিবেশে সমাজে বসবাস করছি। শিশু ভালো না থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে না। বিশ্ব ভালো থাকবে না। এমন সময অধ্যাপক পান্না কায়সার আমাদের মাঝে নেই। তিনি যে নীল পতাকা আমাদের দিয় গেছেন, সেই পতাকা সাহসের সাথে সামনে আমরা এগিয় নিয়ে যাব। শিশুরা যদি একসাথে হাসতে পারে, একটি অসাম্প্রদায়কি বাংলাদেশ বিনির্মাণে যদি কোনো শুভ কাজ হয়, তাকে আমরা স্বাগত জানাই।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সহ সভাপতি খেলাঘর সংগঠক এম নাসিরল হক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম চৌধুরী, সাংবাদিক সুভাষ দে, কবি আশীষ সেন, ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, অধ্যাপক কুড়ল বড়ুয়া, শিল্পী শ্রেয়সী রায় ও আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান।

৫০৩ তম বিশেষ সাহিত্য বাসর

১৬ নিউ ইস্কাটন, ঢাকা ২৩ মার্চ শনিবার ২০২৪

জাতীয় শোক দিবস ২০২৩

জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরের বাড়িতে খেলাঘরের ভাই-বোনেরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হাসান তারেক, সম্পাদক প্রবীর সাহা, সুজন মজুমদার, সামিনা জামান, জাতীয় পরিষদ সদস্য রফিকুজ্জামান নয়ন, আদেল রহমান প্রমুখ।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

যথাযোগ্য মর্যাদায় খেলাঘর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করে। এ উপলক্ষে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে চন্দ্রালোক ও সূর্যালোক খেলাঘর আসরের সহযো-ি গতায় কৃত্রিম বধ্যভূমির মডেল প্রদর্শন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে বক্তব্য রাখেন। পরে সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ভাই-বোনেরা বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

শিক্ষাসফর

কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের সহযোগিতায় আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে প্রায় ৭০জন শিশু-কিশোরকে নিয়ে যাদুঘর পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। শ্যামলছায়া খেলাঘর আসরের ভাই-বোনেরা এতে অংশগ্রহণ করে। তারা বিভিন্ন গ্যালারী ঘুরে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের পরিচালনায় এক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা, মহানগরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান শহীদ, হান্নান চৌধুরী, সুজন মজুমদার, সামিনা জামান ও আদেল।

উদীচীর প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

৪ মে ২০২৩ নেত্রকোনার স্কুল ছাত্রী মুক্তি রানী বর্মনকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগ চত্বরে উদীচী কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সফিকুর রহমান শহীদ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক প্রবীর সাহা ও অনিকেত আচার্য।

গাছ কাটার প্রতিবাদী সমাবেশ

রাস্তার শোভা বর্ধনের নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক সাত মসজিদ রোডের আইল্যান্ডের গাছ কাটার প্রতিবাদে গত ৬ মে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক প্রবীর সাহা এবং মূকাভিনয়ের মাধ্যমে অভিনব প্রতিবাদ জানান খেলাঘর জাতীয় পরিষদ সদস্য সাইফ শোভন।

খেলাঘরের আহ্বান

পাড়ায় পাড়ায় খেলাঘর গড়ে তোল। সুন্দর, মানবিক ও মেধাবান সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্যে খেলাঘরের শাখা আসর গড়ে তোলার জন্যে সমাজের বিশিষ্টজনেরা আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করে শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি জ্ঞানে উৎসাহিত করা খেলাঘরের কাজ। যে কোন এলাকায় অভিভাভক অভিভাভিকা ও তরুণেরা শাখা গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে। ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিলেই হবে। আমাদের ঠিকানা কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, ১৬, নিউ ইস্কাটন, গাউস নগর, ঢাকা-১০০০।

খেলাঘর নোয়াখালী জেলা কমিটি

০৬ মে ২০২৩ খেলাঘর এর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খেলাঘর নোয়াখালী জেলা কমিটি উদ্যোগে মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, মিলনমেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দুই শতাধিক শিশু-কিশোরের অংশ গ্রহণে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং সঙ্গীতগুরু রবিরঞ্জন চক্রবর্তীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক প্রবীর সাহা ও সুজন মজুমদার অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সাংগঠনিক পরিকল্পনা

১। সংঠনকে আরোও সক্রিয় ও প্রণবন্ত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সম্মেলনের পূর্বে সকল শাখা আসর, আঞ্চলিক কমিটি এবং জেলা ও মহানগরী কমিটির সম্মেলন করা। গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সকল পর্যায়ের শাখা সংগঠন সম্মেলন করেই জাতীয় সম্মেলনে অংশ নেবে।

২। কর্মী সংগঠকদের চেতনার মান আরোও উন্নয়নের জন্যে প্রত্যেক জেলা ও আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা।

৩। শিশু সদস্য সংগ্রহ অভিযান করা এবং কেন্দ্র থেকে সভ্যকার্ড সংগ্রহ করা।

৪। প্রত্যেক শাখার মাধ্যমে শিশুদের উপযোগী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধূলার আয়োজন করা।

৫। প্রত্যেক শাখা সংগঠনের সম্মেলন উপলক্ষে শিশুদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।

৬। জাতীয় ছড়া উৎসবের আয়োজন করা।

৭। শিশু-কিশোরদের জন্যে বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচি আয়োজন করা।

নারী ভালো না থাকলে সন্তান ভালো থাকে না

শাহানা ফেরদৌসী লাকী, আহ্বায়ক-ভাবুক খেলাঘর আসর

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেখলে সত্যি খুব কষ্ট হয়। এরা সমাজে নানাভাবে নিগৃহিত হয়। হয় পরিবারে নয় সমাজে। পরিবার হচ্ছে আসল বিদ্যালয়। আমাদের দেশের প্রায় মায়েরা বাল্যবধু বা নিরক্ষর হয়ে থাকে। আর বাকি যারা তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন শিক্ষিত। কিন্তু ‘প্যারেন্টিং’ ব্যাপারটি অনুপস্থিত। শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের শিশুদের বইয়ের ভারী ব্যাগ ঝুলিয়ে দিয়েছে। অভিভাবকরাও মনে করেন বেশী বই থাকলে তার সন্তান পন্ডিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা একবারে ভিন্ন। বিদ্যালয় এবং কোচিং সেন্টারে দৌড়াতে শিশুদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। আরেকদিকে পারিবারিক সহিংসতা, বাবা মায়ের কলহ ঝগড়া বিবাদ, শিশুর মনে কি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা আমরা সকলে বুঝতে পারি না। যে পরিবারে বাবা মায়ের কলহ বেশী সেই পরিবারের সন্তান, নিরাপত্তাহীনতা অনিশ্চয়তা বিষন্নতায় ভোগে। এক সময় তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্ত ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হয়। আরেক দিকে শিশুদের আমরা তুলনা করি ফলাফল নিয়ে। অমুকে এটা করলো ওটা করলো তুমি তো পারলে না।

খেলাধুলা, শরিরচর্চা, সঙ্গিতচর্চা, আবৃত্তি বিতর্ক এসব কারিকু- লামকে আমরা আমলে নিই না বা গুরত্ব দিই না। শিশুদের অতিরিক্ত শাসন ওদের সুকুমার বৃত্তিগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। অত্যধিক চাপে শিশুরা পড়াশোনাকে আতংক হিসেবে দেখছে। অল্প বয়সে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে শিশুশ্রমে নিয়োজিত হয়। আগে আমরা দেখেছি পাড়ার বড় ভাইয়েরা ক্লাব সংগঠনের মাধ্যমে জাতীয় জীবনের বিশেষ দিবসগুলো উদযাপন করতো। দেয়ালিকা, স্মরনীকা, আবৃত্তি অভিনয়, নাচ, চিত্রাংকন

প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। প্রতিটি এলাকায় পাঠাগার গড়ে উঠতো। এতে করে বিজ্ঞানচর্চা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের পরিচয় করানোর পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনের প্রচেষ্টা হতো। এখন সবচেয়ে দুখের বিষয় শহুরে শিশুরা হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্লাটে আবদ্ধ থেকে শিশুরা মোবাইল, টিভিতে আকাশ সাংস্কৃতিতে মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েছে। খেলার মাঠের বা খোলা যায়গার সল্পতা; পার্কের ব্যবস্থা নেই। সবই চলে গেছে ভূমিখেকোদের হাতে। স্কুলের পর শিশুদের ছুটতে হয় কোচিং সেন্টারে। পরিবারের চাওয়া থাকে। আকাশ – ছোঁয়ার স্বপ্ন-পূরনের সোনালী দিনগুলো হারিয়ে যায়। অনেকের অনেক প্রতিভা অঙ্কুরেই বিলীন হয়ে যায়। ফলে শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশ হচ্ছে না। বর্তমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে; বাড়ছে বেকারত্ব দারিদ্রতা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশ গ্রহণ বৃদ্ধির জন্যে সক্ষমতা অর্জন ও সুযোগ তৈরী অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। নারীবান্ধব উদ্যোগ বিকাশ বিস্তৃতি ও বিকল্প নেতৃত্ব তৈরী এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় সকল ক্ষেত্রে নারীর কার্যকর ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নির্যাতনের শিকার সকল নারীর প্রতি সম্মানজনক ভাষা ও আচরণ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা প্রযোজন; তা হলেই নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরী হবে। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যবেক্ষন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সুন্দর, শোষণহীন, অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে এখনই মনোযোগ দিতে হবে।

৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

২রা মে ২০২৪ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হলো কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এ উপলক্ষে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: মাখদুমা নার্গিস রত্না ও সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা সারাদেশের সকল শিশু-কিশোর ভাইবোন ও সকল পর্যায়ের কর্মী সংগঠকদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভে”ছা জানিয়েছেন এবং খেলাঘর আন্দোলনকে দেশের শিশু-কিশোরদের কল্যাণে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। খেলাঘর প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৫২ সালের ২রা মে, জাতীয় দৈনিক সংবাদের খেলাঘর পাতার মাধ্যমে। খেলাঘরের প্রথম ভাইয়া ছিলেন কবি হাবিবুর রহমান, দেশের সুর্য সন্তান শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার, সাংবাদিক সাহিত্যিক সত্যেন সেন, রণেশ দাস গুপ্ত, সাংবাদিক বজলুর রহমান ও সাহিত্যিক পান্না কায়সার প্রমুখের উপদেশ ও সাংগঠনিক দক্ষতায় খেলাঘর সারাদেশে শিশু কিশোর আন্দোলন হিসাবে গড়ে উঠে।

এ উপলক্ষে ২রা মে ২০২৪, সংবাদ কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের শিশু কিশোর ভাই বোন ও কর্মী সংগঠকেরা উপস্থিত থেকে কেক কাটার মাধ্যমে সংবাদ – কর্তৃপক্ষকে এবং উপস্থিত সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মকর্তাদের শুভে”ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন ভুইঞা, হান্নান চৌধুরী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য গোবিন্দ বাগচী, রাজেন্দ্র দেব মন্টু, সুজন মজুমদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামিনা জাহান, শাহানা ফেরদৌস লাকী (আহ্বায়ক, ভাবুক খেলাঘর আসর), কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সীমা রাণী ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অর্ফিয়াস ইকবাল, জাতীয় পরিষদ সদস্য রফিকুজ্জামান নয়ন ও আদেল এবং দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক সালাম জুবায়ের ও সাংবাদিক মাহাবুব।

শিশু সাহিত্য

সাদমান সাকিব

পূর্ণবয়স্ক একটি নীল তিমির একটি মাত্র নিঃশ্বাসে যে পরিমাণ বায়ু বের হয় তা দিয়ে দুই হাজারটি বেলুন ফোলানো সম্ভব।

চার ঘন্টায় কেউ যদি ১০০ কাপ কফি পান করে তাহলে তার নিশ্চিত মৃত্যু হবে।

তেলাপোকা মাথা ছাড়া দশদিন বাঁচতে পারে।

একজন মানুষ তার নাক দিয়ে প্রায় ৫০,০০০ ঘ্রাণ পায়।

একজন মানুষ বছরে প্রায় এক কোটিবার চোখের পাতা ফেলে।

পৃথিবী জুড়ে বছরে প্রায় ৫০ হাজার বারের বেশি ভূমিকম্প হয়।

বাঁশ গাছ দিনে ১৬ ইঞ্চি লম্বা হয়।

চড়ুই পাখি তার শিশুকে দিনে ৩০০বার খাওয়ায়।

মানুষের হাঁচির বেগ ঘন্টায় ১৬০ কি.মি.।

মানুষ কখনো চোখ খোলা রেখে হাঁচি দিতে পারে না।

শামুক এক টানা তিন বছর ঘুমাতে পারে।

একমাত্র হামিংবার্ড পেছনের দিকে উড়তে পারে।

অক্টোপাসের দেহে তিনটি হৃৎপিন্ড আছে।

একটি গাছের ১ পাউন্ড খাদ্য তৈরী করতে ১০০ পাউন্ড বৃষ্টির প্রয়োজন হয়।

আপেল ফলের ৮৪ ভাগই পানি।

এ উপলক্ষে ২রা মে ২০২৪, সংবাদ কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের শিশু কিশোর ভাই বোন ও কর্মী সংগঠকেরা উপস্থিত থেকে কেক কাটার মাধ্যমে সংবাদ – কর্তৃপক্ষকে এবং উপস্থিত সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মকর্তাদের শুভে”ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন ভুইঞা, হান্নান চৌধুরী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য গোবিন্দ বাগচী, রাজেন্দ্র দেব মন্টু, সুজন মজুমদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামিনা জাহান, শাহানা ফেরদৌস লাকী (আহ্বায়ক, ভাবুক খেলাঘর আসর), কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সীমা রাণী ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অর্ফিয়াস ইকবাল, জাতীয় পরিষদ সদস্য রফিকুজ্জামান নয়ন ও আদেল এবং দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক সালাম জুবায়ের ও সাংবাদিক মাহাবুব।

ডলফিন এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।

পিঁপড়ার ঘ্রাণশক্তি কুকুরের চেয়ে বেশি।

মশার দাঁত ৪৭টি।

শামুক পা দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়।

মানবদেহের মোট হাড়ের ১/৪ অংশ পায়ে অবস্থিত।

আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩,০০,০০০ কি.মি.।

প্রায় ৪,০০০ বছর পূর্বে বাংলা ভাষা আবিষ্কৃত হয়েছিল।

নাকের সর্দি হলো মস্তিষ্কের ঘাম।

আপনি দুই হাতে কাজ করলে আপনার মস্তিষ্ক দ্বিগুণ কাজ করবে।

১ ঘন্টা চুইংগাম চিবোলে শরীরের ৩০ ক্যালরি তাপ ক্ষয় হয়।

সন্দেশ

মোস্তাফা ইকবাল চৌধুরী (অর্ফিয়াস)

বেরুবে বেরুবে শুনি সন্দেশ ট্যাবলেট (ট্যাবলয়েড),

পেলে বুঝি পুরো হবে ক্ষুধার্ত এই পেট।

আজ হয় কাল হয় শুনে হই ক্লান্ত,

তবুও সে ভাবনার নেই কোনো ক্ষান্ত।

লেখা – জোকা উপাদান ও সাথে দিয়ে রস,

সন্দেশ করে নেবে পাঠকেরে বশ।

সুধীজন যদি ভাই গেলে একবার,

মনে হতে পারে- যদি পেতো আরবার।

তাই ভাবি – যদি আমি পেতাম সময়,

দেখতাম কীভাবে যে সন্দেশ হয়।

যেহেতু ছাড়িনি আশা’ ভরশা আছে,

বলে যা বলুক লোকে আগে ও পাছে।

ট্যাবলয়েড – আকারে সন্দেশ হলো,

আবার সবার হাতে পৌঁছে গেল।

তাই ভাবনায় সদা সন্দেশ থাকে,

যায়নি হারিয়ে আজ কোনো ঘুরপাকে।

বিজ্ঞান খেলাঘর

আলোর দ্বিচারিতা তত্ত্ব

প্রণয় সাহা

আলো বিদ্যুৎ – চুম্বকীয় তরঙ্গ একথা আমরা অনেকে জানি, অর্থাৎ আলো একপ্রকার তরঙ্গ। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, আলোর দু-ধরনের রূপে ক্রিয়া করে থাকে। কোন ক্ষেত্রে সে তরঙ্গ রূপে কাজ করে কখনো বা সে কণা রূপে কাজ করে থাকে। এই দু-রূপে আলোর কাজকেই আলোর দ্বিচারিতা বলা হয়ে থাকে। শুধু আলো কেন? কণারাও তরঙ্গরূপে আবির্ভাব হয়ে থাকে। যেমন ইলেকট্রন একটি কণা। কারণ এর ভর আছে। এই ইলেকট্রন কণা রুপে আবির্ভূত হয় আবার এই ইলেকট্রন তরঙ্গ রুপেও কখনো কখনো কাজ করে থাকে। তাই দ্বিচারিতা রূপ শুধু তরঙ্গগুলোই করে থাকে না। কণারাও তরঙ্গররূপ ধারণ করে। এই দ্বিচারিতা ররূপ বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করার জন্যেই এই লেখাটি। আলোর তরঙ্গতত্ত্ব বা তরঙ্গ রূপ এখন ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব হিসেবে পরিগণিত। যা আমাদের বিশ্বাস করতে অসহ্য লাগে। আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়ে যায় ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট পরীক্ষার মাধ্যমে। আলবার্ট আইনষ্টাইন ১৯০৫ সালে ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট পরীক্ষায় প্রমাণ করেন যে আলো তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী কাজ করে না। আইনষ্টাইন পরীক্ষা করে দেখান যে, অতিবেগুনী রশ্মি (যা আলো) যখন কোন বিশেষ পরিবাহী মেটাল প্লেটে আপাতিত হয় তখন সেই প্লেটের তল থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। এই নির্গত ইলেকট্রনের গতিবেগ আলোর উজ্জলতার উপর নির্ভর করে না। কিন্তু আলো তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী ইলেকট্রনের গতিবেগ বা গতিশক্তি আলোর উজ্জলতার (Intensity) উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর উজ্জলতা হবে নির্গত ইলেকট্রনের গতিশক্তির সমানুপাতিক অর্থাৎ আলোর উজ্জলতা যত বেশী হবে নির্গত ইলেকট্রনের গতিশক্তিও তত বেশী হবে। তাই আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব দিয়ে ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট পরীক্ষা প্রমাণ করা আর সম্ভব হলো না। শুধু তাই নয় আইনষ্টাইন আরো পরীক্ষা করে প্রমান করলেন, সকল প্রকার তরঙ্গ দৈর্ঘের আলোর তরঙ্গ দিয়ে পরিবাহির (metal surface) তল থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয় না। যেমন লাল আলো দিয়ে ইলেকট্রন নির্গত করা যায় না। কারণ লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশী। কিন্তু তরঙ্গ তত্ত্ব মতে ইলেকট্রন বের করা সম্ভব। এখানেই তরঙ্গ তত্ত্বের অসারতা -যা পরীক্ষায় হেরে গেল। পরবর্তীতে আইনষ্টাইন ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট পরীক্ষার জন্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন ১৯২২ সনে। তিনি প্রমান করলেন ফটোইলেকট্রিক প্রক্রিয়া কণাতত্ত্ব দিয়ে প্রমাণ করা যায়। অর্থাৎ আলো এখানে তার শুধু তরঙ্গ রূপে রইলো না, বা কণা রূপেও আবির্ভূত হয়ে উভয় রুপ ধারণ করলো।

আলোর দুটি রূপ, তরঙ্গরূপ এবং কনা রূপ। এই হলো আলোর দ্বিচারিতা বা Dual Nature. ১৯০২ সালে প্লাংক নামের একজন বিজ্ঞানী বললেন আলোকতরঙ্গে রয়েছে একধরনের কণা যাকে বলা হয় ফোটন। এই ফোটন কণা গুলোই আলোক শক্তির আধার। আমরা দেখি আলো সূর্য্য থেকে আসছে অনবরত (Continuously)। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন এই অনবরত প্রবহমান আলোকছটায় রয়েছে অতি ক্ষুদ্র শক্তির বিশিষ্ট কণা (energy Packets) যা ফোটন নামে অভিহিত। প্রতি ফোটনের শক্তির পরিমানও বিজ্ঞানীরা নির্ণয় করেন, এই সমীকরণের দ্বারা একটি ফোটনের শক্তিকে সমান ৬.৬৩ ঢ ১০৩৪ X কম্পাঙ্ক (E=hf) সুতরাং আমরা ভাবতে পারি সূর্য্য থেকে প্রতিনিয়ত ফোটন কণা নির্গত হয়ে আমাদের কাছে পৌঁছায়। আলোর উজ্জ্বলতা নির্ভর করে ফোটন কণার উপর। বেশী উজ্জ্বল মানে বেশী বেশী ফোটন কণার আবির্ভাব। এদিকে বিজ্ঞানীরা আরো পরীক্ষা করে প্রমাণ করলেন, কণাগু-ে লাও তরঙ্গ রুপে আবির্ভূত হয়। যাকে বলা যায় কনার দ্বিচারিতা (Dual Nature of Particle) অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করলেন ইলেকট্রন (কণা) দিয়ে বিচ্ছুরণ ঘটানো সম্ভব (Diffraction). বিচ্ছুরণ (Diffraction) হয় তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী। বিচ্ছুরণ (Diffraction) ঘটানোর জন্য দরকার ছোট ফাঁকা জায়গার পরিমান আগত তরঙ্গের দৈর্ঘ্যের সমান। এ থেকেই বুঝা যায় বিচ্ছুরণ বা Diffraction তরঙ্গ তত্ত্বের উপর নির্ভর করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে প্রমাণ করলেন ইলেকট্রনের বিচ্ছুরণ। ইলেকট্রন একটি কণা। ইলেকট্রন বিচ্ছুরণ পরীক্ষা প্রমাণ করল, কণাও কখনো কখনো রূপ পাল্টে তরঙ্গের মত আবির্ভূত হয়। ফ্রেন্স বিজ্ঞানী লুইস ভিক্টরের এই তত্ত্ব আবিষ্কারের মূলে রয়েছে ডি-ব্রগলী নামে একজন বিজ্ঞানী। তিনি বলেছিলেন ভরবেগের সাথে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক রয়েছে। যা ডি-ব্রগলী তরঙ্গদৈর্ঘ্য নামে পরিচিত। কণার তরঙ্গ রুপ বা ইলেকট্রনের বিচ্ছুরণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ তৈরী করা হয়েছে।

এক ডজন অজানা সত্য

নাফিসা ইয়াসমিন কেয়া- নবম শ্রেণী
মানুষের হাঁচির গতিবেগ ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগের সমান। অর্থাৎ ঘন্টায় ১৮০ কিলোমিটার।ডিনামাইট তৈরী করতে চীনাবাদাম প্রয়োগ করা হয়।পৃথিবীতে ‘মুহাম্মদ’ নামের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।পতঙ্গ কখনো কাপড় কাটে না। আসলে তার লালা কাপড় নষ্ট করে।শামুক একটি ব্লেডের ধারের উপরও চলতে পারে।জাপানিরা বাড়িতে একধরনের মাছ পালন করে এবং সে মাছ ভূমিকম্পের কয়েক ঘন্টা আগে অস্থির হয়ে তার পূর্বাভাসের সূচনা দেয়।ফিলিপাইনের বোয়া নামের পাখি বাসা তৈরী করার সময় জোনাকি ব্যবহার করে। সেজন্যে তার বাসাটা রাত্রে আলোকিত হয়ে থাকে।ইঁদুর পানি না খেয়ে উটের চেয়ে বেশিদিন জীবিত থাকতে পারে।মশা প্রতি সেকেন্ডে তার ডানাকে ৫০০ বার ঝাপটায়। এ কারণেই আমরা কানের কাছে মশা উড়লে গুনগুন শব্দ শুনতে পাই। একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ শ্বাস গ্রহণ করে তা দিয়ে ১০০০টি বেলুন ফোলানো সম্ভব। পৃথিবীর ওজন জানতে হলে ৬৬ এর পর ২০টি শূন্য বসাতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে যত মানুষের বাস, তার ত্রিশগুণ বেশি মানুষ কবরে আছে।

গণিত পাঠশালা

পরিচালক পি কে সাহা

ভাগ করার নিয়ম শেখ:
১- কোন সংখ্যার শেষ একক শূন্য অথবা জোর সংখ্যা হয় সেই সংখ্যা ২ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন: ৩৮০ ৪৩৪৪, ৫৬ কে ২ দ্বারা ভাগ করা যায়।

২- একটি সংখ্যার যোগফল যদি ৩ দ্বারা বিভাজ্য হয় তাহলে উক্ত সংখ্যাটিও ৩ দ্বারা বিভাজ্য যেমন:
৪৬২=৪+৬+২=১২ যাহা ৩ দ্বারা বিভাজ্য সুতরাং ৪৬২ ও ৩ দ্বারা বিভাজ্য।

৩- একটি সংখ্যা ৪ দ্বারা বিভাজ্য হবে যখন দশক ও একক মিলে প্রাপ্ত সংখ্যাটি ৪ দ্বারা বিভাজ্য:
যেমন: ৩৬৫২ এতে দশক ও একক মিলে ৫২ যাহা ৪ দ্বারা বিভাজ্য সুতরাং ৩৬৫২ সংখ্যাটি ৪ দ্বারাণ বিভাজ্য। ৩৬৫৪ সংখ্যাটি ৪ দ্বারা বিভাজ্য নহে কারণ দশক ও একক মিলে সংখ্যাটি ৫৪ যাহা ৪ দ্বারা বিভাজ্য নহে।

৪- একটি নম্বর ৫ দ্বারা বিভাজ্য যদি এর একক স্থানিয় সংখ্যাটি শুন্য অথবা ৫ হয়। যেমন: ২৩৪০ এবং ৪৮৪৫ নম্বর দুটি ৫ দ্বারা বিভাজ্য কারণ প্রথম নম্বরের একক সংখ্যাটি শুন্য এবং দ্বিতীয় নম্বরের একক স্থানীয় সংখ্যাটি ৫।
৫- যে কোন নম্বর ১০ দ্বারা বিভাজ্য হবে যদি তার একক স্থানীয় সংখ্যাটি শুন্য হয়। যেমন: ৩৮৪০ ৪৮৫০৩০ সংখ্যা দুটি ১০ দ্বারা বিভাজ্য কারণ একক স্থানীয় সংখ্যাটি শুন্য। কিন্তু ৩৮৪৫ এবং ৪৮৫০৩২ নম্বর দুটি ১০ দ্বারা বিভাজ্য নহে।

৬- একটি নম্বর ৯ দ্বারা বিভাজ্য হবে যদি নম্বরটির সংখ্যাগুলোর যোগফল ৯ দ্বারা বিভাজ্য হয় যেমন: ৩৮৪৩ নম্বরটি ৯ দ্বারা বিভাজ্য কারণ ৩+৮+৪+৩=১৮ যাহা ৯ দ্বারা বিভাজ্য।

নিজকে জেনে নাও:

১.ভুল হলে ঢ এবং সঠিক হলে টিক (1) দাও।

ক) একটি নম্বর ৬ দ্বারা বিভাজ্য হলে তাহা অবশ্যই ১২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।

খ) একটি নম্বর ৬ দ্বারা বিভাজ্য হলে তাহা অবশ্যই ৩ দ্বারা বিভাজ্য হবে।

গ) একটি নম্বর ১০০ দ্বারা বিভাজ্য হলে তাহা অবশ্যই ২৫ দ্বারা বিভাজ্য হবে।

ঘ) একটি নম্বর ২৫৬ দ্বারা বিভাজ্য হলে তাহা অবশ্যই ৩২ দ্বারা বিভাজ্য হবে।

২. একটি নম্বর আরেকটি নম্বর দ্বারা বিভাজ্য যদি আরেকটি নম্বর এর গুণিতক দ্বারা নম্বরটি বিভাজ্য হয়।

ক) একটি নম্বর ৬ দ্বারা বিভাজ্য হবে যদি তাহা ৬ এর গুণিতক ৩ বা ২ দ্বারা বিভাজ্য হয়।

খ) একটি নম্বর ১০ দ্বারা বিভাজ্য হবে যদি তাহা ১০ এর গুণিতক ২ ও ৫ দ্বারা বিভাজ্য হয়।

গ) একটি নম্বর ১২ দ্বারা বিভাজ্য হবে যদি তাহা ১২ এর গুণিতক ৩ ও ৪ দ্বারা বিভাজ্য হয়।

বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কথা শোন

গত সংখ্যার পর

প্রীতিলতা তখন সবে শৈশব পেরিয়া কৈশোরে পা রেখেছেন। চট্টগ্রামের বিপবীরা তখন মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন শেষে সক্রিয় হচ্ছিলেন। স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ঊষাদির সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিপবীদের ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে অনেক কিছুই জানতে পারেন তিনি। ঊষাদির দেয়া ঝাঁসীর রাণী বইটি পড়ার সময় ঝাঁসীর রাণী লক্ষ্মীবাইযরে জীবনী তার মনে গভীর রেখাপাত করে। তখন বিপবী সংগঠনের ছাত্র আর যুবকদেরকে অস্ত্রশস্ত্র, সাইকেল ও বইপত্র গোপনে রাখার ব্যবস্থা করতে হত। সরকার বিপবীদের প্রকাশনাসমুহ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। প্রীতিলতার নিকট-আত্মীয় পূর্ণেন্দু দস্সিার তখন বিপবীদলের কর্মী। তিনি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কিছু গোপন বই প্রীতিলতার কাছে রাখেন। তখন তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী। লুকিযে লুকিয় তিনি পড়নে দেশের কথা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম আর কানাইলালের ‘এই সমগ্রন্থ প্রীতিলতাকে বিপবের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকায় যখন প্রীতিলতা পড়তে যান তখন শ্রীসংঘ নামে একটি বিপবী সংগঠন ছিল। এই দলটি প্রকাশ্যে লাঠিখেলা, কুড়ি, ডনবৈঠক, মুষ্টিযুদ্ধশিক্ষা ইত্যাদির জন্যে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ক্লাব তৈরী করেছিল। ঢাকায শ্রীসংঘের দীপালী সঙ্ঘ নামে একটি মহিলা শাখা ছিল। লীলা নাগ (বিষরে পর লীলা রায়) এর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি নারীশিক্ষা প্রসারের জন্যে কাজ

করত। গোপনে তারা মেয়েেদর বিপবী সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার কাজও করত। ইডেন কলেজের শিক্ষক নীলিমাদি’র মাধ্যমে লীলা রাযরে সাথে প্রীতিলতার পরিচয় হয়িেছল। তাদের অনুপ্রেরণায় দীপালী সঙ্ঘে যোগ দিয েপ্রীতিলতা লাঠিখেলা, ছোরাখেলা ইত্যাদি বিষয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। [৩৫] পরবর্তীকালে তিনি লিখেছিলেন আই এ পড়ার জন্য ঢাকায় দু’বছর থাকার সময় আমি নিজেকে মহান মাস্টারদার একজন উপযুক্ত অনুসারী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন।

১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনা

ছিল পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ। কিন্তু গুড ফ্রাইডের

কারণে সেদিনের ঐ পরিকল্পনা সফল করা যায়নি। চট্টগ্রাম শহরের উত্তরদিকে পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে এই ক্লাব ছিল ব্রিটিশদের প্রমোদকেন্দ্র। পাহাড় ঘেরা এই ক্লাবের চতুর্দিকে প্রহরীদের অবস্থান ছিল। একমাত্র শ্বেতাঙ্গরা ব্যতীত এবং ক্লাবের কর্মচারী, বয়-বেয়ারা, দারোয়ান ছাড়া এদেশীয় কেউ ঐ ক্লাবের ধারে কাছে যেতে পারতো না। ক্লাবের সামনের সাইনবোর্ডে লেখা ছিল ডগ এন্ড ইন্ডিযান প্রহিবিটেড। সন্ধ্যা হতেই ইংরেজরা এই ক্লাবে এসে মদ খেয েনাচ, গান এবং আনন্দ উলাস করতো। আত্মগোপনকারী বিপবীরা ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের জন্যে নুতনভাবে পরিকল্পনা শুরু করে।

চট্টগ্রাম শহরের কাছে দক্ষিণ কাট্টলী গ্রামে ঐ ক্লাবেরই একজন বেয়ারা যোগেশ মজুমদারের বাড়েিত বিপবীরা আশ্রয় পেলেন। ১৯৩২ এর ১০ আগস্ট ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দিন ধার্য করা হয়। সাতদিন আগেই পুলিশের হাতে পুরষবেশী কল্পনা দত্ত ধরা পরে গেলে আক্রমণে নেতৃত্বের ভার পড়ে একমাত্র নারী বিপবী প্রীতিলতার উপর। প্রীতিলতা হুইসেল আক্রমণ শুরুর নির্দেশ দেবার পরেই ঘন ঘন গুলি আর বোমার আঘাতে পুরো ক্লাব কেঁপে কেঁপে উঠছিল। এই আক্রমণে কয়েকজন বৃটিশ অফিসার ও সৈন্য নিহত হন। প্রীতিলতাও গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি ধরা পরার আগেই পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে শহীদ হন। তাকে অনুসরণ করেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক কিশোরী মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করে আত্মহুতি দেন।

তথ্য সূত্র – উকিপিডিয়া

শ্যামল ছায়ার শিক্ষার্থী শিশু-কিশোরদের মাঝে

শীতবস্ত্র বিতরণ

শ্যামল ছায়ার শীতবস্ত্র বিতরণ

রাজধানী ঢাকার মান্ডাএলাকায় অবস্থিত শ্যামল ছায়া খেলাঘর আসরের সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য খুব খুশীর একটি দিন। রঙিন কম্বল উপহার পাবার আনন্দ শীতকে পরাজিত করে ওদের কচি মনের সর্বএ ছড়িয়েছে অনাবিল উষ্ণতা। শ্যামল ছায়ার সাধারণ সম্পাদক সামিনা জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরতে খেলাঘরের প্রয়াত চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সার স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্য অতিথিদের সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে সকল শিশু-কিশোরদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়। পুরো আযােজন আলোকিত করে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক আধ্যাপক প্রণয় সাহা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: আব্দুল হান্নান, জাতীয পরিষদ সদস্য সাইফ শোভন, কবি ছড়াকার আলি সারওয়ার প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রকাশনা বিভাগের পক্ষে, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রধান উপদেষ্টা ডা: মাখদুমা নার্গিস রত্না

বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী

সম্পাদক প্রণয় সাহা

সম্পাদনা পরিষদ হান্নান চৌধুরী

অশোকেশ রায়, সুনীল সরকার

সাইফ শোভন, সম্পাদনা সহযোগী

এম, আই চৌধুরী অর্ফিয়াস। ডিজাইন: ফাইয়াজ হোসেন।