খেলাঘরের অঙ্গীকার
অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী
আমরা জানি, বাংলাদেশের শিশুদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের শরীর ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন প্রয়োজন। শিশুদের শারীরিক বিকাশের জন্য চাই শরীরচর্চা ও ব্যায়াম; আর মানসিক বিকাশের জন্য চাই সংস্কারমুক্ত উদার পরিবেশ; যুক্তিবাদী, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসার। এই চেতনা ধারণ করেই শিশু কিশোর-কিশোরীরা প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমাদের পরিবারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সমাজে শিশুদের মুক্তমনা করে গড়ে তোলার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, হচ্ছে না। ধর্মান্ধতা ও মতান্ধতা বড়দের যেমন বিভক্ত করে রাখছে, তেমনি ছোটদের ওপরও তার প্রভাব পড়ছে। এর বিপরীত চিত্র যে নেই, আমরা তা বলছি না । তবে তা ব্যতিক্রম। কিশোরদের মানসিক অবস্থার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে, তাদের মনোদৈহিক বিকাশের জন্য প্রকৃত উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে আমরা বড়রা আমাদের ইচ্ছে, অনিচ্ছা, ভালো-লাগা, মন্দ-লাগা, তাদের উপর চাপিয়ে দিই। তাদের সামর্থ্যরে প্রতি লক্ষ না রেখে, আমাদের উচ্চাভিলাষ অনুসারে তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফলসহ অন্যান্য বিষয়ে অতিমাত্রিক সাফল্যের প্রত্যাশা করি। আমরা অভিভাবকেরা চাই, নানামুখী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চায় তারা পারদর্শী হোক Ñ সে – তাদের সামর্থ্য থাক আর নাই থাক। তারা কোন বিষয়ে আগ্রহী, কোন বিষয়ে পারদর্শী, আদৌ পারদর্শী কিনা, আদৌ আগ্রহী কিনা, তা হিসেবের মধ্যে আমরা অনেকেই নিতে চাই না। ফলে শিশুরা, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা বিগড়ে যায়। তখন তারা বিকাশের পরিবর্তে বিকৃত মানসিকতা ও রুচি লাভ করে। আবার প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশে শিশু-কিশোরদেরকে আমরা অসম প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ করাই। এতে ব্যর্থতা অনিবার্য হয়ে ওঠে, সেই ব্যর্থতাও তাঁদের বিকৃতির মধ্যে ঠেলে ফেলে দেয়। তখন আমরা আমাদের দোষ না দেখে তাঁদের দায়ী করি, গালমন্দ করি। অনেকে আবার কেবল লেখা-পড়ার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চাই। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে বা পড়ে একাধিক গৃহশিক্ষকের কাছে পাঠাই বা নিয়ে যাই। খেলাধূলা বা সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো সুযোগেই থাকে না। আর খেলবেই বা কোথায়, মাঠই তো নেই। শহুরগুলোতে ফাঁকা জায়গা দেখলেই ডেভেলপাররা তা কিনে নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং কৃতকার্যও হন। আবার তরুণদের অনেকে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়া, কন্যাশিশু বা তরুণীদের দেখলেই, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী, অশ্লীল মন্তব্য করে তাদের বিব্রত করে। তারা যে বোন, এ কথা ভুলে যায়। আর তাদের দেখাদেখি কিশোরেরাও তাদের অনুকরণের মধ্যে এক ধরনের হিরোইজম খুঁজে পায়। এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু চলচ্চিত্রের প্রভাবও কম নয়। কোনো কোনো শিশু-কিশোর বা কিশোরী একেবারেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গড়ে ওঠে। আপন স্বার্থের বাইরে অপরের জন্যও যে ভাবতে হয়, তার কল্যাণের জন্যও যে কাজ করতে হয়, এ থেকে তারা অনেক দূরে অবস্থান করে। এদের অনেকে অন্যের প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতি করে না, তবে অন্যের পাশে প্রয়োজনে দাঁড়ানোর প্রয়োজনও বোধ করে না। এদের দিকে তাকিয়েই বোধ হয় ‘নিজে বাঁচলে বাপের নাম’, ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’র মতো প্রবচন তৈরি হয়েছে। কিন্তু কবি কামিনী রায় বলেছেন, আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী’ পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। আবার ‘দেশপ্রেম’ একটি বড় জিনিস। যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছি, যে দেশের অন্নজলে জীবন ধারণ করছি, তার প্রতি ভালোবাসাকেই বলে দেশপ্রেম। দেশের বা দেশের মানুষের মঙ্গলজনক কাজের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটানো যায়। আবার আমরা মানুষ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের চেহারা, গায়ের রং, পোশাক-আশাক, খাদ্যাভ্যাস, আচার-ব্যবহার ও আমোদ-প্রমোদের উপাদান এককথায় সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু একটি জায়গায় আমরা এক; তা হলো আমাদের মনুষ্যত্ব। তাইতো গাঁয়ের একজন কবি- যার নামও আমরা জানি না – বলেছেন;
নানান বরণ গাভি রে ভাই একই বরণ দুধ, জগৎ ভরমিয়া দেখলাম একই মায়ের পুত। গাভি নানা রঙের হতে পারে, কিন্তু তাদের দুধ যেমন সাদা, তেমনি মানুষ নানা বর্ণের, নানান আচার- ব্যবহারের অর্থাৎ নানা সংস্কৃতির হতে পারে, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরা এক। কাজেই ধর্মের পার্থক্য, বসবাসের অঞ্চলের পার্থক্য, আচার-আচরণের পার্থক্য আমাদের মনুষ্যত্বের দিক থেকে পৃথক করতে পারে না। যদি কেউ পৃথক করে বা করতে চায় বা সেভাবে আচরণ করে, তবে তাকে সংকীর্ণতা বা সাম্প্রদায়িকতা বলে অভিহিত করা হয়। খেলাঘর শিশু – কিশোরদের অন্ধবিশ^াস, সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে মুক্তমনা, অসাম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক করে গড়ে তোলার জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। খেলাঘর তার সাংগঠনিক ঘোষণাপত্রে বলেছে: ‘দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতে শেখায় খেলাঘর। ভালবাসতে শেখায় দেশের ঐতিহ্যকে। মাতৃভাষাকে সে প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয় মনে করে এবং মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য খেলাঘর অঙ্গীকারাবদ্ধ’।
খেলাঘরের সাংগঠনিক ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে: ‘খেলাঘর আগামী দিনের সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখে। তাই খেলাঘর পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে, শান্তির পক্ষে এবং সেই সঙ্গে ভালবাসতে শেখায় পৃথিবীর সকল মানুষকে’। খেলাঘরের এ চেতনা যদি প্রতিটি শিশু-কিশোর ধারণ করে, তাহলে তারা অন্যদের ভালবাসবে, ধর্মান্ধ হবে না, সাম্প্রদায়িক হবে না, পৃথিবীর সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করবে এবং সম্ভব হলে তার জন্য আত্মনিয়োগ করার প্রয়াসী হবে। আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গড়ে উঠছে, তাদের চেতনায় দেশপ্রেম বা মানবপ্রেম নেই। অনেকেই আবার প্রভাবিত হয়ে ধর্মের ক্ষেত্রে উগ্রবাদী হয়ে উঠেছে এবং উঠছে। এ অবস্থা থেকে শিশু কিশোরদের বের করে আনতে হবে। তার জন্য খেলাঘর যে সাংগঠনিক উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তার প্রতি আস্থাশীল থেকে দেশের শিশু-কিশোরদের মুক্তমনা, দেশপ্রেমিক ও মানবপ্রেমিক করে গড়ে তুলতে হবে। তাই দেশের শিশু-কিশোরদের অভিভাকদের উদ্বুদ্ধ করে শিশু-কিশোরদের খেলাঘরের পতাকা-তলে নিয়ে আসার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার । আর এ শিক্ষা আমাদের দিয়েছে খেলাঘরের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত মনীষী হাবিবুর রহমান, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার, খেলাঘরের সভাপতিমন্ডলীর এক সময়ের চেয়ারম্যান সাংবাদিক বজলুর রহমান প্রমুখ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের ভালবাসতেন। তিনিও বঙ্গভবনে খেলাঘরের শিশুদের আশীর্বাদ করে, তাদের কল্যাণে উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীলতা ও শোষণের সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি এবং স্বদেশে তাঁদের দোসর বা অনুচরেরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে তাঁর সেই সংকল্প পূরণ করতে দেয়নি। খেলাঘর স্বেচ্ছায় সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীদের প্রতি রইল আমাদের উদাত্ত আহবান ও বিনীত অনুরোধ, যাতে করে তাঁরা তাঁদের শিশু-কিশোর-সন্তান বা পোষ্যদের খেলাঘরের কল্যাণকর ও গঠনমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে নিজেদের দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়।
এগিয়ে চলার ৭৩ বছর
প্রণয় সাহা
বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের চেতনায় ২রা মে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত শিশুদের পাতা ‘খেলাঘর’ আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর নামের জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এবার ২০২৫ এর ২রা মে সংগঠনটি তার চলার পথে ৭৩ বছর পূর্ণ করল। আমাদের মত দেশে সুদীর্ঘকাল শিশু কিশোর সংগঠন হিসেবে টিকে – থাকা ছোট ঘটনা নয়। দেশের ঐতিহ্যের জাতীয় সত্ত¡াকে ধারণ করে খেলাঘর পথ চলেছে অবিরাম মানুষের ভালবাসায়, তাদের প্রয়োজনে। খেলাঘর মানুষের আস্থায় অবিচল। তাদের সন্তানদের জন্য খেলাঘর কর্মসূচী সময়োপযোগী। তাই খেলাঘরের চলার পথ ছিল অবিরাম সামনের দিকে। বাঁক ছিল, কিন্তু থেমে থাকেনি কখনো। দেশের শিশু-কিশোরদের মনেস্বপ্নের বীজ বপন করে চলেছে খেলাঘর। প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞান মনস্কতার আলোয় শিশুদের হাতছানি দেয় খেলাঘর। মুক্তমনের অধিকারী হয়ে গড়ে উঠার জন্য খেলাঘর সবসময় তার ছয়শত শাখা আসরের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডে শিশু- কিশোরদের চেতনায় আলো জালিয়ে রেখেছে এই সংগঠনটি। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে খেলাঘর কর্মসূচীর বিকল্প আর নেই। সমাজের সুষ্ঠু বিকাশ সাধনে আগামীদিনের প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাঘরের অবদান এদেশের সকল স্তরের মানুষ উপলব্ধি করেছে- আস্থা রেখেছে। সে জন্যেই এখনও খেলাঘর গ্রাম-গঞ্জে পাড়া মহল্লায় সমহিমায় কাজ করে যাচ্ছে। এদেশের মানুষের প্রয়োজনে সকল মু্িক্ত আন্দোলনে শিশু সুরক্ষাসহ সকল সংগ্রামে খেলাঘর অবদান রেখেছে। খেলাঘরের শিশূ-কিশোরেরা ও কর্মী সংগঠকেরা প্রগতির পতাকা উর্দ্ধে রাখতে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে সবসময়। খেলাঘর সাহিত্যবাসর উপলক্ষে লিখিত ছড়া কবিতা ৬৯’ এর গণ-আন্দোলনকে বেগবান করেছে। যেমন: ট্রাক-ট্রাক-ট্রাক, শুয়রমুখো ট্রাক, ট্রাকের মুখে আগুন দিতে মতিউরকে ডাক। এমনি জনপ্রিয় বিদ্রোহী সাহিত্যের আলোয় বাঙালীর গণআন্দোলনকে আলোকিত করেছে খেলাঘর।
খেলাঘর হারায় খেলাঘর আন্দোলনের থিংকট্যাঙ্ক বাঙালীর সূর্যসন্তান শহীদুল্লাহ কায়সারকে। ত্রিশলক্ষ শহীদের আত্মদানে ও দুইলক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ এর ১৬ডিসেম্বর বিজয় হলো, পেলাম বিশ্বমানচিত্রে লাল সবুজের প্রিয় বাংলাদেশ। শতশত কিশোরের বক্ষ ঝাঁঝরা করে দিয়েছিলো পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী জয় বাংলা শ্লোগান দেয়ার অপরাধে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অস্ত্র সমর্পন করার দিন খেলাঘরের লাল স্কার্ফ পরা শিশু-কিশোরেরা রাইফেলের বাটে ফুল গুজে দিয়েছিল, শিশুর হাসিতে উজ্জল সুখী সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মানের আশায়। বাঙালী জাতিসত্তার বিকাশের মাধ্যমে বাঙালী জাতি এক অনন্য আত্মশক্তিতে বলিয়ান হয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লালসবুজের নিজস্ব পতাকা পেয়েছে- মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে বাঙালী জাতির নিজস্ব আবাসভূমি প্রিয় বাংলাদেশ। বিশ্বের দরবারে বাঙালীজাতিগোষ্ঠীর আত্মসম¥ান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সারা বিশ্ব বাঙালী জাতিকে শ্রেষ্ঠত্তের আসনে বসিয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের স্বীকৃতি দিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বাঙালী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং তার দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের কয়েকটি ভাষণের একটি ভাষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়া বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠত্তে¡র প্রমান। এই ঘটনাগুলো আমাদের শিশুরা জেনে বুঝে বড় হোলে অবশ্যই আগামীদিনে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পূর্বসুরীদের প্রতি থাকবে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। ১৯৭০ এর উত্তালদিনগুলোতে খেলাঘরের শিশুরা শ্লোগান তুললো আমার তোমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা। এই শ্লোগানেই অন্তর্নিহিত ছিল মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অদম্য বাসনা। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সারাদেশের খেলাঘর সংগঠকেরা অংশ নিল মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংসদের বদিউজ্জামানসহ ৩৮জন খেলাঘর সংগঠক। শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা দেয়ার দর্শনের ভিত্তিতে নানারকম সৃষ্টিশীল কর্মকান্ড দিয়ে শিশুদের মনজগতে প্রগতিশীল জীবনবোধ সৃষ্টি করে চলেছে খেলাঘর।
বর্তমানবছরগুলোতে শিশুদের মনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করার প্রয়াসে খেলাঘর কাজ করে যাচ্ছে। সেজন্য বাঙালী সংস্কৃতির বিকাশ, চর্চা ও প্রসারে খেলাঘর শিশুদের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করাচ্ছে। ১৯৫৪ সালে বরিশালে জাগৃহী খেলাঘর আসর নামে ঢাকার বাইরে প্রথম একটি শাখা সংগঠন গঠন করে। এই শাখা সংগঠনটি গড়ে তোলার ব্যাপারে দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী কবীর চৌধুরীর অবদান ছিল। ১৯৫৬ সালের ২২ জুলাই কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রথম কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৫৭ সালের জুন মাসে দ্বিতীয় কার্যকরী পরিষদ, ১৯৫৮ সালের জুলাই মাসে তৃতীয় এবং ১৯৬২ সালের ২৯ জুলাই চতুর্থ কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। জন্মলগ্ন থেকে প্রথম ভাইয়া ছিলেন কবি হাবিবুর রহমান। ১৯৫৯ সালে দ্বিতীয় ভাইয়া হিসেবে সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদ এবং ১৯৬১ সালে অস্থায়ী ভাইয়া হিসেবে সাংবাদিক মনজুর আহমেদ দায়িত্ব পালন করে। এই সময়কাল সারা দেশে বিভিন্ন জেলায় খেলাঘরের শাখা – সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে। ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সাংবাদিক বজলুর রহমান চতুর্থ ভাইয়া হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে ৫মার্চ বাংলাএকাডেমীতে খেলাঘরের প্রথম প্রাদেশিক (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র দেশ থেকে ২০টি শাখা এই সম্মেলনে অংশ নেয়। এই সম্মেলনে গণতান্ত্রিকভাবে সকল শাখা সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া গঠিত হয় পঞ্চম কার্যকরী পরিষদ। ১৯৭০ সালের ১৫ মার্চ বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ষষ্ঠ কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। এতে সারাদেশ থেকে ২৬টি শাখা আসর অংশ নেয়। বাংলাভাষাকে প্রাণের চেয়ে ভালবাসতে শেখায় খেলাঘর।
বাংলা সাহিত্যের সৃষ্টিশীলতা বিকাশ করার জন্য বিশেষ করে বাংলা শিশু-সাহিত্যকে শিশু-কিশোরদের মাঝে জানতে আগ্রহী করার লক্ষে সাহিত্যবাসর শুরু করে ১৯৬৯ সালের ১৩জুন থেকে। ইতোমধ্যে ৫০৮তম সাহিত্যবাসর সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রতিষ্ঠিত অনেক সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী শিক্ষক, প্রকৌশলী, সচিবের হাতেখড়ি এই সাহিত্যবাসরে অংশ নেয়া থেকে। সাহিত্যবাসরে শুধু সাহিত্য নিয়েই ব্যস্ত থাকে না। বাাঙালী ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিকের সৃজনশীলতা বিকাশের কর্মসূচীতেও সাহিত্যবাসরগুলোতে প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। আবৃত্তি চর্চা, ছবি আঁকা,নাচ, গান, বিজ্ঞান চর্চা, গল্প বলা, সৃজনশীল বিষয়ে অভিনয়, বক্তৃতাসহ নানাবিধ আনন্দদায়ক প্রতিভা বিকাশে শিশুদের অংশ নেয়ার ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়ে থাকে। এতে বাঙালী জাতীয়তাবাদে বা বাঙালী সংস্কৃতির আলোকে শিশুরা বেড়ে ওঠে। বর্তমানে স্বরূপকাঠির অরণী খেলাঘর আসরসহ বিভিন্ন শাখা আসর উঠোন বৈঠক নাম দিয়ে একই ধরনের সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডে শিশুদের যুক্ত করে কাজ শুরু করেছে। গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় কোন এক পরিবারের উঠোনে এই কর্মকান্ড আয়োজন হয়ে থাকে। শিশু শ্রমিক নবউদ্যমে খেলাঘর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হলো স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসের এক কার্যকরী সংসদের সভায়। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাএকাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয় খেলাঘর সাহিত্য বাসরের সুবর্ণ জয়ন্তী। এই সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের উপদেষ্টা সাহিত্যিক সাংবাদিক রনেশ দাশগুপ্ত, অধ্যাপিকা পান্নাকায়সারকে নিয়ে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন এই সংগঠন তোমার ঠিকানা। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে সারাদেশের সকল শাখা আসরের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৫৪টি শাখা এতে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। সিদ্ধান্ত হয় জেলা কমিটি গঠনের। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লা জেলা আহŸায়ক কমিটি গঠন করা হয়। খেলাঘর আগামীদিনের একটি সুন্দর ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখে; তাই খেলাঘর পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে, শান্তি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পক্ষে। খেলাঘর শিশু-কিশোরদের ভালবাসতে শেখায় পৃথিবীর সকল মানুষকে। গাজায় শিশু হত্যার বিরুদ্ধে খেলাঘরের শিশুরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করার জন্য শ্লোগান দিয়েছে। তাই বিশ্বের সকল শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও প্রীতির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় খেলাঘর সচেষ্ট। আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠন সিমিয়ার সদস্যপদ পায় খেলাঘর ১৯৭৩ সালে। এ ছাড়া খেলাঘর আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠন ঈওঝঠ (চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল সামার ভিলেজ) সদস্য। এ ছাড়া সর্বভারতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সবপেয়েছির আসর, কিশোর মেলা ও কিশোরবাহিনীর সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এসব সংগঠনগুলোর আমন্ত্রণে খেলাঘর অনেকবার বিদেশ ভ্রমন করার সুযোগ পেয়ে আসছে।
১৯৭৬ সালের ২৪ ও ২৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রথম জাতীয় সম্মেলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সাংবাদিক বজলুর রহমান ভাইয়া চেয়ারম্যান ও ডক্টর সৈয়দ মোহাম্মদ সাহেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সম্মেলনে প্রায় ১৭৫টি শাখা অংশগ্রহণ করে। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারী মাসে খেলাঘর সাহিত্যবাসরের শততম জয়ন্তী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালের ১৯ মার্চ খেলাঘর রজতজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে এক বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৫টি জেলা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। ১৯৭৯ সালের ১৩ ও ১৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি মিলনায়তনে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুইশতাধিক শাখা – আসর অংশগ্রহণ করে। সাংবাদিক বজলুর রহমান ভাইয়া চেয়ারম্যান ও জনাব জহুরুল আলম ঝরা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ১৫০তম সাহিত্যবাসর। বর্ণাঢ্য এই সাহিত্যবাসরে দেশের অনেক গুনী সাহিত্যিক ছড়াকার অংশ নেয়। ১৯৮২ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় তিনশতাধিক শাখা আসর অংশগ্রহণ করে। সাংবাদিক বজলুর রহমান ভাইয়া চেয়ারম্যান ও জনাব কামাল চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে ২০০তম ও ১৯৮৩ সালে ২২৫তম সাহিত্যবাসরের বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। ১৯৮৫ সালে খেলাঘর শিশুশ্রমিক চাঁন মিয়া হত্যার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। হত্যাকারীদের বিচারের সম্মুখিন হতে বাধ্য করে খেলাঘর। ১৯৮৬ সালের ২৭ ও ২৮ ফেব্্রুয়ারী বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রস্তুতিপরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপিকা পান্না কায়সার ও যুগ্ম আহŸায়ক ছিলেন তাহমীন সুলতানা স্বাতী ও প্রণয় সাহা। সম্মেলনে ডক্টর আলী আসগর চেয়ারম্যান ও তাহমীন সুলতানা স্বাতী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে খেলাঘর ৩০০তম সাহিত্যবাসরের আয়োজন করে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও নীরেন্দ্র চক্রবর্ত্তী এই সাহিত্য সম্মেলনে অতিথি হিসাবে যোগ দেন। এই সময়কালে ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় খেলাঘর প্রথম জাতীয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গাজীপুরের মৌচাকে। প্রায় দুই শতাধিক শিশু – কিশোর এই আবাসিক ক্যাম্পে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয় শারীরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি খেলাঘর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় পরিষদ সভা ও জাতীয় সম্মেলন আহŸান না করায় সম্মানিত খেলাঘর জাতীয় পরিষদ সদস্যদের অধিকাংশ সদস্য এক তলবী সভার আহŸান করে ১৯৯২সালের ২৮ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে। খেলাঘর জাতীয় পরিষদ দুই জাতীয় সম্মেলনের মধ্যবর্তী সময়ে খেলাঘরের সর্বোচ্চ ফোরাম। এই সভায় সংগঠনকে গঠনতান্ত্রিক ধারায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে এক শক্তিশালী আহŸায়ক কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যাপক পান্না কায়সারকে আহŸায়ক, ডা: মাখদুমা নারগিস রতœা, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী ও ড: প্রদীপ রায়কে যুগ্ম-আহŸায়ক করে এই আহŸায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই আহŸায়ক কমিটি সারাদেশের কর্মীদের মাঝে নবজাগরণ সৃষ্টি করে। ১৯৯২ সালের ৩০এপ্রিল ও ১মে দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট প্রাঙ্গন ও মিলনায়তনে খেলাঘরের ইতিহাসে বৃহত্তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দশ সহ¯্রাধিক শিশু-কিশোর-কর্মী-সংগঠকের উপস্থিতিতে জাতীয় সম্মেলনের শুভ উদে¦াধন করেন জাতির বিবেক কবি সুফিয়া কামাল, অতিথি ছিলেন সাংবাদিক বজলুর রহমান ভাইয়া। সম্মেলনে অধ্যাপক পান্না কায়সারকে সভাপতিমন্ডলীর চেয়ারম্যান ও প্রণয় সাহাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি ও জাতীয় পরিষদকে শপথ বাক্য পাঠ করান সাবেক বিচারপতি কে, এম, সোবহান। খেলাঘরের ৪০ বছর পূর্তি উৎসব: ১৯৯৩ সালের ২০ ও ২১ জানুয়ারী দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে সংগঠনের ৪০বছর পূর্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় – কিশোর মেধাবান হয়ে উঠে আসে। এরাই প্রতিষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক জগতের বড় বড় শিল্পী হয়ে।
এই অনুষ্ঠানে কয়েকজন গুণীজন বুদ্ধিজীবীর সম্মাননা দেয়া হয়। এই সাংস্কৃতিক উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রধান অতিথি ছিলেন আমার ভাইয়ের রক্তে-রাঙ্গানো একুশে ফেব্রæয়ারীর রচয়িতা সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক আব্দুল গাফফার চৌধুরী। ০৩ জাতীয় শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ২০১৬ অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১-৪মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে ঐতিহ্যবাহী শাখা আসরের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সামগ্রিক তত্ত¦াবধানে। এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান কমরেড বিমান বসু। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জনাব আ,ক,ম মোজাম্মেল হক এমপি, নেত্রী শেখ হাসিনা। কবি সুফিয়া কামালকে প্রদান করা হয় ‘শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার স্মৃতি পদক’। ১৯৯৬ সালের ১-২ জুন দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয় খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে অধ্যাপক পান্না কায়সার সভাপতিমন্ডলীর চেয়ারম্যান ও প্রণয় সাহা সাধারণ সম্পাদক পুন:নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে ২৭,২৮, ও ২৯মার্চ তিনদিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অনুষ্ঠিত হয় খেলাঘর জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব। সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্বোধন করেন কবি শামসুর রাহমান। ২০০০ সালে খেলাঘর আয়োজন করে সার্ক উৎসব: “মৈত্রীর বন্ধনে, শান্তিময় বিশ্বচাই” শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০০০ সালের ২৪, ২৫ ও ২৬ ফেব্রæয়ারী খেলাঘর আয়োজন করে সফল সার্ক মৈত্রী মেলার। তিনদিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে। এই মৈত্রীমেলায় ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের শিশু কিশোরেরা অংশ নেয় এবং নিজ নিজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। জাতীয় সংগঠন হিসেবে খেলাঘরের এই আয়োজন সারাদেশের মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে ও প্রশংসা পায়। খেলাঘর যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি শিশু সংগঠন তা প্রমানিত হয় এই আয়োজনের মাধ্যমে। ২০০২ সালের ২মে বাংলাদেশ শিশু-একাডেমীতে খেলাঘর আন্দোলনের সুবর্ণ জয়ন্তী (৫০ বছর পূর্তি) উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খেলাঘরের ভাইয়া সাংবাদিক বজলুর রহমান। উল্লেখ্য যে খেলাঘরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে যে সত্যটি উঠে আসে তা হলো খেলাঘরকে মজবুত সাংগঠনিক অবকাঠামোতে প্রতিষ্ঠিত করার মূলে রয়েছে বজলুর রহমান ভাইয়ার সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ শ্রম ও মেধা। ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৬ এই সুদীর্ঘ সময়ে ভাইয়া নামের আড়ালে বজলুর রহমান নামটি হারিয়ে গিয়েছিল। খেলাঘরের সকল ভাই বোন কর্মী সংগঠক সবাই তাকে ভাইয়া নামেই ডাকতো। ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রæয়ারী ভাইয়া আমাদের ছেড়ে ইহলোক ত্যাগ করেন। খেলাঘরের শিশু-কিশোরেরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে হাজারো মানুষের মধ্যে গার্ড অব অনার প্রদান করে আমাদের সকলের প্রিয় ভাইয়াকে শেষ বিদায় জানায়। খেলাঘর হারায় একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। ২০০৫ সালে ৬ মাসব্যাপী সারাদেশে শাখা ও জেলা পর্যায়ে শিশু পার্লামেন্টের এক বিশাল আয়োজন করে খেলাঘর। দেশের মানুষ বড়দের পার্লামেন্ট সম্পর্কে জানে কিন্তু শিশু পার্লামেন্টের অবতারণা করে খেলাঘর জাতির সামনে এক নতুন ধারনার গতিপথ উন্মোচন করে। জেলা পর্যায়ের শিশু পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধীদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের পার্লামেন্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে খেলাঘরের উপদেষ্টা সাহিত্যিক সাংবাদিক সত্যেন সেনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিশু-কিশোরদের মাঝে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও আলোচনার আয়োজন করা হয়। ২০০৮ সালের ৪ আগষ্ট বজলুর রহমান ভাইয়ার ৬৮তম জন্মউৎসব পালন করা হয়।
২০০৮ সালের ২৯ ও ৩০আগষ্ট বাংলাদেশ শিশু – একাডেমীতে দুদিনব্যাপী খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অধ্যাপিকা পান্না কায়সার পুনরায় সভাপতিমন্ডলীর চেয়ারম্যান ও আব্দুল মতিন ভুঁইয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে ৭ মার্চ সাংবাদিক বজলুর রহমান ভাইয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে। এ সময়কালে শিশু-খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ও লালন ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশাল শিশু-কিশোর প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করে খেলাঘর। শিশু-কিশোরদের এই আন্দোলন সমাজে মুক্তচিন্তার অধিকারে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ২০০৯সালের ১৭ ডিসেম্বরে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে শিল্পী অজিত রায়কে শিশু-কিশোরদের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়া হয়। সারাদেশের শিশু – কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উজ্জীবিত রাখা খেলাঘর আন্দোলনের একটি বিশেষ দিক। ২০১০ সালের ৭,৮,৯ জানুয়ারী তিন দিনব্যাপী খেলাঘর জাতীয় শিশু – কিশোর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে সারাদেশের শিশু – কিশোরদের মাঝ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিশু – কিশোরেরা পুরস্কৃত হয়। প্রায় প্রতিবছর খেলাঘর আয়োজিত এধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ২০১০ সালের মার্চ মাসে (২৫,২৬,২৭,২৮ মার্চ) চারদিনব্যাপী খেলাঘর জাতীয় শিশু – কিশোর শারীরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রের মাঠে। এই ক্যাম্পে বন্ধুদেশ ভারতের তিনটি বন্ধু সংগঠনের ২৯জন প্রতিনিধি যোগ দেয়। ২০১১সালের ২মে ৫৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক সম্মাননা প্রদান করা হয়, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ডা. সারোয়ার আলী, শিল্পী মিতা হক, সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু ও খেলাঘর সংগঠক সাংবাদিক চিত্তরঞ্জনশীলকে। ২০১২সালের ১৪মে খেলাঘরের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়, প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী সোহরাব হোসেন, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, কথাসাহিত্যিক রাহাত খান ও খেলাঘর সংগঠক আলতাফ মাহমুদকে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমান বঙ্গভবনের দরবার হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ পদক প্রদান করেন। ২০১২ সালের ৮-১১ মার্চ চারদিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে (শরীর চর্চা কেন্দ্র) জাতীয় শিশু-কিশোর ক্যাম্প ২০১২ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জনাব নাসির উদ্দিন ইউসুফ। প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি, অতিথি ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী, গোলাম কুদ্দুস, হাসান আরিফ, ফাল্গুনী হামিদ, সাংবাদিক হারুন হাবিব। সারাদেশের শিশু-কিশোরেরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ভারত ও নেপাল থেকে ২৫জন শিশু সংগঠক ও শিশু-কিশোর অংশ গ্রহণ করে। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও যুদ্ধাপরাধমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের দাবিতে দেশের তরুণ প্রজন্ম যে বিশাল গণআন্দোলন গড়ে তোলে যা শাহবাগ আন্দোলন নামে পরিচিত তাতে খেলাঘরের শিশু কিশোর, কর্মী সংগঠকরাও অংশ গ্রহণ করে। ২০১৩ সালের ১৫-১৮ জানুয়ারী চারদিনব্যাপী নোয়াখালী জেলার বনলতা খেলাঘরের আয়োজনে কেবি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আঞ্চলিক শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রের সহযোগিতায়। ক্যাম্পে ভারত ও নেপালের সবপেয়েছির আসরের ২৮জন প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করে। উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: এবিএম জাফরউল্লাহ চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: সিরাজুল ইসলাম, হাসান আরিফ, মাখনলাল দাস, ম হামিদ, লিয়াকত আলী লাকী, ঝুনা চৌধুরী, মামুনুর রশিদ কিরণ এমপি, প্রণয় সাহা, আব্দুল মতিন ভুইয়া, আবুল ফারাহ পলাশ, তপন ঘোষ প্রমুখ।
২মে ২০১৩ খেলাঘরের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে বজলুর রহমান স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়। সব্যবাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী রফিকুন্নবী, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস এবং চট্রগ্রামের খেলাঘর সংগঠক দিলীপ দাশকে। মাননীয় ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। খেলাঘরের গৌরবের ৬৩ বছর উপলক্ষে ২০১৪সালের ১৪মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বজলুর রহমান স্মৃতি পদক দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পান্না কায়সার। বজলুর রহমান স্মৃতিপদকে ভূষিত হন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড: আবুল বারাকাত, শিশু সহিত্যিক ছড়াকার আখতার হুসেন, পদার্থ বিজ্ঞানী ড: অজয় রায় ও খেলাঘর সংগঠক ও নারী নেত্রী এডলিন মালাকার। এই সুদীর্ঘ সময়কালে খেলাঘরের অনেক শিশু-কিশোর প্রতিনিধিদল সোভিয়েত ইউনিয়নের পাইওনিয়ার সংগঠনের আমন্ত্রণে রাশিয়া, সিমিয়ার আমন্ত্রণে ইউরোপ, সামার ভিলেজের (ঈওঝঠ) আমন্ত্রণে ডেনমার্ক, হাঙেরী এথেন্স এবং ভারত সফর করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার আন্দোলনকে আরো বেগবান করার লক্ষে ২০১৫সালের ১৬ ও ১৭ জানুয়ারী শুক্র ও শনিবার দুদিনব্যাপী উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন ১৫ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সম্মেলনে অধ্যাপক পান্না কায়সার সংগঠনের চেয়ারম্যান পুন: নির্বাচিত হন এবং আবুল ফারাহ পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ খেলাঘর জাতীয় সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন। খেলাঘর ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বজলুর রহমান ভাইয়া স্মৃতিপদক দেয়া হয় অধ্যাপক মুস্তফা নূর-উল-ইসলাম, অধ্যাপক ডক্টর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী এবং খেলাঘর সংগঠক নৃপেন্দ্র কুমার চক্রবর্ত্তীকে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি, নাট্যব্যক্তিত¦ মামুনুর রশিদসহ কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মাানিত প্রশাসকসহ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। প্রায় ৭শত শিশু কিশোর ভাইবোন এতে অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। সর্বভারতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সবপেয়েছির আসর ও নেপাল থেকে শিশু-কিশোরেরা এই ক্যাম্পে যোগ দেন। ২০১৬ সালে খেলাঘরের ৬৪-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বজলুর রহমান ভাইয়া স্মৃতিপদক দেয়া হয় নাট্যজন আলী যাকের, সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান, গীতিকার ও সুরকার সেলিম রেজা এবং খেলাঘর সংগঠক মাখনলাল দাশকে। সবপেয়েছির আসরের আমন্ত্রণে ৫৮তম ক্যাম্প সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হান্নান চৌধুরীর নেতৃত্বে ১২সদস্যের প্রতিনিধিদল ভারত যান। ২০১৬ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় ১৮সদস্যের প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারত গমন করেন। দলনেতা ছিলেন প্রণয় সাহা ও সহকারী দলনেতা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারাহ্ পলাশ। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়া জেলায় অনুষ্ঠিত সবপেয়েছি আসরের ৫৯তম ক্যাম্পে যোগ দেন আবুল ফারাহ্ পলাশ, সাহাবুল ইসলাম বাবু, সুনীল কুমার সরকার ও গোবিন্দ বাগ্চী। ২০১৯ সালের ২০-২১ সেপ্টেম্বর খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন ১৯ ঢাকা শিশু-একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সম্মেলনে অধ্যাপক পান্না কায়সার চেয়ারম্যান পুন: নির্বাচিত হন, এবং দুটি টার্মের পর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রণয় সাহা। সাম্যের পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিশু-কিশোর আঞ্চলিক আবাসিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় ২২ থেকে ২৫ মার্চ ২০২০ সালে। গাজীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী শাখা আসর ক্ষণিকা খেলাঘর আসরের আয়োজনে কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সার্বিক সহযোগিতায় এই আঞ্চলিক শিশু- কিশোর ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সারাবিশ্বে স্থবিরতা নেমে আসে। বাংলাদেশ সরকার সাধারণ ছুটির নামে কার্যত লকডাউন ঘোষণা করে। ১৬ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর অনলাইনে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যায়। করোনার প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের উদ্যোগে খেলাঘর ব্রাষ্মণবাড়ীয়া জেলা কমিটির ব্যবস্থাপনায় খেলাঘর জাতীয় আবাসিক শিশু কিশোর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদেশ থেকে ৬শতাধিক শিশু কিশোর এই ক্যাম্পে যোগ দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এই প্রশ্ক্ষিণ ক্যাম্পে ভারতের সবপেয়েছির আসর, কিশোরবাহিনী ও নেপাল থেকে শিশু-কিশোর, সংগঠকবৃন্দ ও প্রশিক্ষকবৃন্দ অংশ নেয়। এই সুদীর্ঘ পথচলায় প্রধান প্রধান কার্যক্রম তুলে ধরা হলো – তাও সংক্ষিপ্তরূপে। সারাদেশে গ্রাম গঞ্জে, পাড়া মহল্লায় খেলাঘর আসরের সাপ্তাহিক, মাসিক সাহিত্যসভা বা উঠোনবৈঠকে হাজারো শিশু-কিশোর বিভিন্ন বিভাগে সৃষ্টির উল্লাসে অংশ নিয়ে নিজ নিজ সাংস্কৃতিক জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন করছে। এছাড়া জাতীয় দিনগুলো যেমন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শিশু অধিকার সপ্তাহ যথাযোগ্য মর্যাদায় খেলাঘর পালন করে। এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ত্যাগী সৃষ্টিশীল ও মেধাবান সংগঠকবৃন্দ। জায়গার স্বল্পতার কারণে বিস্তারিত কর্মসূচী পালনের দৃশ্যপট তুলে ধরা গেল না। খেলাঘর আন্দোলনের বিস্তারিত ইতিহাস লেখা প্রয়োজন। পাড়ায় পাড়ায় খেলাঘর গড়ে তোল। সুন্দর মানবিক সাম্যের সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন শিশুদের শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি অনুপ্রেরণা জাগানো। খেলাঘরের শ্লোগান: এসো গড়ি খেলাঘর – এসো গড়ি বাংলাদেশ, খেলাঘর চায় কি – শিক্ষা ও শান্তি, আমার তোমার ঠিকানা – পদ্মা মেঘনা যমুনা, যুদ্ধ নয় শান্তি- শান্তি, শান্তি, শিশুশ্রম বন্ধ কর, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা কর। আমরা কারা শান্তির পায়রা। এসো আমরা সাম্যের ছবি আঁকি ইত্যাদি। এই শ্লোগানগুলোর বহুমাত্রিক দর্শনের আলোকে শিশুদের মাঝে কাজ করাই সুন্দর ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। খেলাঘরের পতাকাতলে সমবেত হয় বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাত-ধনী, গরীব পরিবার থেকে। কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় শিশুরা বলছে, এসো সবাই দেশ গড়ি, সাম্যের ছবি আঁকি।
তথ্য সংগ্রহ: এগিয়ে চলার বছর পঁচিশ, দৈনিক সংবাদের খেলাঘর পাতা, খেলাঘর সন্দেশ ও কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রকাশিত স্মরণিকা সমূহ।
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা চিন্তা
ধীরেন হালদার
ভূমিকাঃ পৃথিবীর কবি রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি হিসেবেই বিশ্বের মানুষের কাছে সমাদর লাভ করেননি। শিক্ষক ও শিক্ষা দার্শনিক হিসেবে সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে গেছেন। শিক্ষার বিভিন্ন দিকের উপর আলাপ আলোচনা করেই তিনি তার কর্তব্য শেষ করেননি। শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে তিনি তার চিন্তাকে নিজস্ব পদ্ধতিতে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন । শিক্ষাবিষয়ক রচনাবলীঃ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রেই অমূল্য অবদান রেখেছেন। শিক্ষাবিষয়ক নানা গ্রন্থ ও প্রবন্ধ তিনি রচনা করেছেন।
শিক্ষাবিষয়ক তার গ্রন্থসমূহ হচ্ছেঃ আশ্রমের রূপ ও বিকাশ, প্রাক্তনী, শান্তিনিকেতন, ব্রহ্মচর্যাশ্রম, শিক্ষা আন্দোলন, শিক্ষার ধারা, বিশ্বভারতী ইত্যাদি। এছাড়াও তাঁর লেখা শিক্ষাবিষয়ক বাংলা ও ইংরেজি প্রবন্ধের সংখ্যা একশোরও বেশি। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা চিন্তাঃ “সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি“। মানুষকে মানুষ করে তোলাই রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তার মূল কথা। তিনি মানুষের সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তার প্রথম শর্ত হচ্ছে স্বাধীনতা- “শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুকে চিন্তার স্বাধীনতা, ভাবের স্বাধীনতা এবং ইচ্ছার স্বাধীনতা দিতে হইবে“। আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা দানঃ তার শিক্ষা চিন্তার দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাদান। শিক্ষাদান ও শিক্ষা গ্রহণ উভয় কাজেই আনন্দময় না হলে শিক্ষায় উৎসাহ ও প্রেরণা আসে না। জ্ঞান লাভের আকাঙ্খা বিনষ্ট হয়। তিনি বলেন আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে। “গ্রহণ শক্তি, ধারণ শক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বল লাভ করে“।
তার মতে শিক্ষায় সার্থকতা লাভের জন্য প্রয়োজন মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা গণমুখী শিক্ষার উপরে সমধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। সমাজের দাবিকে গ্রহণ করেই শিক্ষা কাঠামোকে সাজাতে হবে। তাই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন “বিদ্যালয় সমাজের সঙ্গে মিশিয়া আছে, তাহা সমাজের মাটি হইতে রস টানিতেছে এবং ফল দান করিতেছে“। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তার মূল গভীরে প্রোথিত। সংস্কৃতিবান মানুষ সৃষ্টিঃ সংস্কৃতিবান মানুষ, সমৃদ্ধ সমাজ রবীন্দ্রনাথের অন্যতম কামনা। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছিলেন- আধুনিক শিক্ষা থেকে একটা জিনিস কেমন করে স্খলিত হয়ে পড়ছে; সে হচ্ছে সংস্কৃতি। তাই তার বক্তব্য চিত্তের ঐশ্বর্যকে অবজ্ঞা করে আমরা জীবনযাত্রার সিদ্ধিলাভকেই একমাত্র প্রাধান্য দিয়েছি, কিন্তু সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে এই সিদ্ধিলাভ সম্ভব নয়। সুতরাং সংস্কৃতিবান মানুষ সৃষ্টি শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হতে হবে। উপসংহারে বলা যায় যে, পরিপূর্ণ মানুষ হবার অপরিমিত আকাক্সক্ষাকে জাগিয়ে রাখবার জন্যেই শিক্ষা এবং শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তিনি তার সেই আকাক্সক্ষাকে রূপায়িত করেছেন।
ছোটদের খাবার-দাবার
জেবুন নেসা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ‘হীল’
নাস্তার মেনু : ক্স যে কোনো একটি ফল। আঙ্গুর আপেল হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কারণ প্রকৃতি সস্তা ফলে কম গুণ দিয়েছে আর দামী ফলে বেশী গুণ দিয়েছে, মোটেও তা নয়। কেউ যদি ফল খেতে না পারে তবে ফলের রস খাওয়া যায়। তবে আস্ত ফলে যে আঁশ থাকে তা খুব উপকারী। ক্স যেহেতু ময়দা খাওয়া চলবে না, সেহেতু আটার রুটি ও তার সাথে এক বা একাধিক সবজির ভাজি। ক্স সেদ্ধ ডিম। মাঝে মাঝে স্বাদ বদলের জন্য ডিম ভাজা খাওয়া যায়, তবে তেল কম দিয়ে ভাজতে হবে। সাথে মাশরুম কুচি দেয়া যায়। ক্স খুব কম তেলে ভাত ভাজা। সাথে সালাদ হিসেবে শসা, গাজর ও টমেটো। ক্স শসা কুচি, পেঁয়াজ কুচি, মরিচ ও ধনেপাতার সঙ্গে সমপরিমাণ ভেজা চিড়া মিশিয়ে ভর্তা।
ক্স অঙ্কুরিত মুগের ঘুগনি। একইভাবে ছোলা ও মটরশুঁটির ঘুগনিও বানানো যায়। ক্স যবের ছাতু বা যব (ঙধঃং) গরম দুধে। ক্স আটার রুটি ও হালুয়া। হালুয়ায় গুড়ের সঙ্গে সুজি, সাগু বা গাজর। ক্স সাগুর সাথে ডাল মিশিয়ে খিচুড়ি। ক্স কাউনের খিচুড়ি। ক্স ঝাল সুজি। ক্স ঝাল বা মিষ্টি পিঠা ; তবে চিনি নয়, গুড়ের মিষ্টি। ক্স টক দই। মিষ্টি করতে হলে সাথে গুড় বা মধু। ক্স স্মরণশক্তি বাড়ার জন্য : সকালে থানকুনির রস ৪ টেবিল চামচ ও মধু ১ চা চামচ। স্কুলের টিফিন: ক্স শসা, গাজর ও কাঁচা পেঁপে। দেশী ফল, যেমন আমলকি, পেয়ারা, আমড়া, জামবুরা, তরমুজ ও কলা। ছোলা, মটর ও অঙ্কুরিত মুগের ঘুগনি। ক্স ভুট্টা সেদ্ধ। ক্স রুটি ভাজি বা ভাত ভাজা। ক্স সবজির পাকোড়া, ঝাল বা মিষ্টি পিঠা, মমো (ভাঁপে তৈরী সবজি বা মাংসের পুর দেয়া পিঠা)। ক্স মাশরুমের পাকোড়া । ক্স চিড়ার পোলাও। ক্স আলুর দম। স্কুল থেকে ফেরার পরে নাস্তা: ক্স পুদিনাসেদ্ধ পানি বা পুদিনাপাতার চা, ফল, স্পিরুলিনা। ক্স কাঁচা পাতার রস বা কোনো সবজির – যেমন গাজরের – রস। ক্স টক ফল, যেমন – আমড়া, জামবুরা, আনারস, কাঁচা আম, কামরাঙ্গা, জলপাই, জাম ও চালতা। তেঁতুল ও আখের গুড়ের শরবত। কাঁচা আমের শরবত। ক্স লেবু পানি। ক্স টক দই ও মধু দিয়ে লাচ্ছি। ক্স এ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর শরবত। দুপুরের খাবার: ক্স রান্নায় তেল যতোদুর সম্ভব কম ব্যবহার করা উচিত। পরিমিত পরিমাণে জলপাইয়ের তেল (এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল) খুব উপকারী, তবে তা দিয়ে কোনো কিছু ভাজা যাবে না। তরকারী, খিচুড়ি, ভর্তা, ভাজি ও সালাদে কাঁচা তেল মিশিয়ে খেতে হবে। বেশী পরিমাণে কোনো না কোনো শাক। ক্স দু’তিন রকমের সবজির নিরামিষ বা ভর্তা। থানকুনি পাতার ভর্তা পেটের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। ক্স শসা, টমেটো, কাঁচা পেঁপে, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা ও লেটুস ইত্যাদির সালাদ ও লেবু। ক্স মাছ বা মাংসের তরকারী, কিন্তু কোনোটাই দুই টুকরোর বেশী নয়। ক্স ডাল। বিভিন্ন রকমের ডাল মিশিয়ে কিংবা একেকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়া ভালো। ডালের সঙ্গে টক ফল ও সবজির টুকরোও মেশানো যায়। ক্স টক দই, সাথে চারগুণ পানি মিশিয়ে। সেই সাথে গুড় দেয়া যেতে পারে। বিকেলের নাস্তা: ক্স মমো, ঘুগনি, চিড়া, মুড়ি, পিঠা, গুড়ের পায়েস ও আলুর দম। ক্স চালের গুঁড়োর তৈরী চাপটি। ক্স মুগের অঙ্কুর পেঁয়াজ – মরিচ দিয়ে মাখিয়ে। ক্স দই – চিড়া। ক্স শুকনো ফল, যেমন খেজুর, বাদাম, কিসমিস, শিম বিচি ও মিষ্টি কুমড়োর বিচি। ক্স যবের ছাতু বা যব (ঙধঃং) গরম পানিতে ভিজিয়ে জাউ বানিয়ে সবজির সাথে বা গরম দুধে ভিজিয়ে পরিজ বানিয়ে খাওয়া যায়। রাতের খাবার: ক্স নানা ধরনের সবজির নিরামিষ, তেল ছাড়া কিংবা জলপাইয়ের তেল দিয়ে। কোনো শাক নয়।
ক্স নরম ভাত, জাউ, আটার রুটি কিংবা যবের ছাতু বা যব (ঙধঃং)- এর জাউ। ক্স মাছ – মাংস খুব অল্প পরিমাণে। ক্স রাতে যে কোনো গুরুপাক খাবার না খাওয়াই ভাল। কিছু সবজি – যেমন ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়ো ইত্যাদি দুপুরে খাওয়াই ভালো। ক্স দুধ, ছানা, পনির ও গুড় মেশানো টক দইয়ের শরবত। শোয়ার আগে খিদে পেলে গম কিংবা যবের তৈরী ডাইজেস্টিভ জাতীয় বিস্কুট, ময়দার তৈরী বিস্কুট নয়। ক্স সবজির সঙ্গে আমাদের দেশে উৎপাদিত মাশরুমের স্যুপ অথবা নিরামিষ।
বজ্রপাত কেন হয়
প্রণয় সাহা
দেয়া ডাকে গুরুম – গুরুম। তাইতো বৃষ্টি হবে। মানুষের মাঝে এই রকম ধারণার কথা শোনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে এধরনের কথাবার্তা প্রচলিত। কারণ বৃষ্টির সাথে ফলনের সম্পর্ক রয়েছে। অনেকে বৃষ্টিকে কামনা করে গরম থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। বজ্রপাতের সময় দুটি ঘটনা একই সাথে ঘটে। একটি হলো বজ্রপাতের প্রচন্ড শব্দ আরেকটি হলো আকাশে আলোর বিচ্ছুরণ। আমরা সবাই প্রথমে আলোর বিচ্ছুরণ দেখতে পাই পরক্ষণেই প্রচন্ড শব্দ। সে জন্য বিশেষ করে ছোটরা আকাশে আলোর বিচ্ছুরণ দেখামাত্র কান চেপে ধরে। এতে প্রচন্ড শব্দ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কথা হলো দুটি ঘটনা একই সাথে আকাশে ঘটলো। কিন্তু আলোর বিচ্ছুরন বা বিদ্যুৎকালো আগে দেখা গেল, শব্দ পরে শোনা গেল। কারণ হলো, বিদ্যুৎ চমকানোর গতি আলোর গতির সমান ৩.০*১০/৮ মি:/সে. আর শব্দের গতি প্রায় ৩৪০মিটার/সেকেন্ড গতির বিশাল ব্যবধানের জন্য বজ্রপাতের বিচ্ছুরন আগে দেখা যায় এবং শব্দ শোনা যায় পরক্ষণেই। প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় একশত মানুষ বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করে। এদের বেশীর ভাগ শ্রমজীবী মানুষ। যাদের খোলা আকাশের নীচে থেকে দৈনন্দিন কাজ করতে হয়।
সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, মেঘে মেঘে ধাক্কা লেগে বজ্রপাত ও শব্দ সৃষ্টি হয়। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? বিজ্ঞান দিয়েই এ ঘটনা দুটি বুঝা যাবে। অন্য কোন পথে নয়। প্রথমে জানা যাক মেঘ কিভাবে সৃষ্টি হয়। নদ – নদী, হাওর, পুকুর, ডোবা নালা ও বিশাল সমুদ্্র জলের উৎস। রোদের তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। কারণ জলীয়বাস্প হালকা, ঘনত্ব জলের চাইতে কম। এখানে একটি কথা সবার জানা প্রয়োজন যে, পৃথিবী পৃষ্ঠ সূর্য থেকে দূরে থাকলেই পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা উপরের বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার চাইতে অনেক কম। এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখা রয়েছে। গ্রীন হাউস ইফেক্ট দিয়ে এ ঘটনা বুঝা যায় বা তাপের গতিপথের উপর নির্ভরশীলতার তত্ত¦ দিয়েও বুঝা যাবে। আমাদের আলোচনার বিষয় বজ্রপাত। তাই আলোচনা এখানেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। বাস্প যখন উপরে উঠে আসে তখন ঠান্ডা বায়ুর সংস্পর্শে এসে বাস্পগুলো ঘনিভূত হয়। অর্থাৎ জলের কণাগুলো কাছাকাছি আসে। জলীয়বাস্পের এই ঘনিভূত রূপকেই আমরা মেঘ বলি। মেঘের রঙ কালো দেখায় কেন? মেঘের জলীয়বাস্পের কণাগুলো একে অপরের কাছাকাছি এলে সূর্যের আলো একবারেই মেঘের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই আমরা মেঘ কালো দেখি। মেঘের ভেতর জ্বলীয়কণাগুলো গ্যাসে কণার মত বিক্ষিপ্তভাবে (Randomly) চলাচল করতে থাকে। তাপমাত্রা যখন শূন্যডিগ্রী সেলসিয়াস হয় তখন অতিক্ষুদ্র – ক্ষুদ্র বরফ কণার সৃষ্টি হয়। এই বরফকণাগুলোও বিক্ষিপ্তভাবে (Randomly) চলতে থাকে। ফলে বরফ কণাগুলোর সাথে ধাক্কা – ধাক্কির ঘটনা ঘটে। ধাক্কা – ধাক্কির ফলে কী হয় তা বুঝার জন্য, পরমাণুর বৈদ্যুতিক ধর্ম সম্পর্কে জানা থাকা দরকার। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছে। একটি পরমাণুতে সমানসংখ্যক ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে। ইলেকট্রনের চার্জ ঋণাত্মক এবং প্রোটনের চার্জ ধনাত্মক।
ধাক্কা ধাক্কির ফলে বরফকণার গতিশক্তি অন্য একটি বরফকণার ইলেকট্রনগুলো শোষণ করে নেয়ার ফলে বরফকণার ইলেকট্রন বের হয়ে আসে ঐ কণা থেকে। অন্য বরফকণার ইলেকট্রন ঢুকে যায়। অর্থাৎ ধাক্কা ধাক্কির ফলে কোনো কোনো বরফকণা ইলেকট্রন বর্জন করে এবং কোনো কোনো বরফকণা ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ইলেকট্রন বর্জন করে কণাগুলো পজিটিভ হয় এবং যে কণাগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে তারা নেগেটিভ হয়। যে কণাগুলো পজিটিভ হয় তাদের ভর কমে যায় ইলেকট্রন হারিয়ে আর যে কণাগুলো নেগেটিভ হয় তাদের ভর বেড়ে যায় ইলেকট্রন যোগ হয়ে। ফলে মেঘের ভিন্ন বরফকণাগুলোর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়ে নেগেটিভ বরফকণারা মেঘের নীচের তলে চলে আসে কারণ তাদের ভর বেশী। অন্যদিকে পজিটিভ বরফকণারা মেঘের ভেতর উপরিতলে থেকে যায় কারণ তারা হালকা। এখানে বুঝা দরকার মেঘের ভেতর অনেক অনেক বেশী পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জের সৃষ্টি হয়। এই চার্জিত মেঘমালা আকাশে ঘুরে বেড়াতে থাকে। মেঘের নীচের তল নিগেটিভ থাকায় পৃথিবীপৃষ্ঠের তল পজিটিভ হয়। অর্থাৎ মেঘের নীচের তলের নিগেটিভ চার্জ পৃথিবীর তলের ইলেকট্রনগুলোকে ধাক্কা দিয়ে আরও নীচে পাঠিয়ে দেয়। ফলে পৃথিবীর উপরিতল পজিটিভ হয়। একে ইলেক্ট্রোষ্ট্যাটিক ইনডাকশন বলে। এখন আলোচনা দরকার, বিদ্যুৎ চমকায় কিভাবে এবং শব্দই কেন হয়। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে, একটি বড় মেঘের নীচের তল নিগেটিভ এবং ঠিক নীচে পৃথিবীর উপরিতল পজিটিভ। এই দুইতলের মাঝামাঝি জায়গায় বায়ু রয়েছে অর্থাৎ গ্যাস কণা রয়েছে। এই গ্যাসকণাগুলো শক্তিশালী ইলেকট্রিক ফিল্ডের কারণে আয়নিত হয়। অর্থাৎ বায়ু অসংখ্য নিগেটিভ ও পজিটিভ আয়নের সৃষ্টি হয়। বায়ূতে- সৃষ্ট নিগেটিভ আয়নগুলো মেঘের নীচের নিগেটিভ চার্জ দ্বারা বিকর্ষিত হয়ে পৃথিবীর পজিটিভ তলের দিকে ছুটে আসে। ইলেক্ট্রনের এই প্রবাহ থেকেই বজ্রপাত বা আলোর বিচ্ছুরণ সৃষ্টি হয়। এই ইলেক্ট্রনের প্রবাহে বায়ুতে প্রচন্ড উত্তাপ তৈরী হয়। ফলে বায়ু হঠাৎ করে প্রচন্ডবেগে আয়তনে বেড়ে গিয়ে ফেটে শব্দের সৃষ্টি করে যা থেকে আমরা গুরু গুরু দেয়ার ডাক শুনি। অর্থাৎ একটি বেলুন যখন বড় হতে থাকে তখন হঠাৎ ফেটে শব্দ করে।
অধ্যাপক পান্না কায়সার এর সমাধিতে
খেলাঘরের শ্রদ্ধা নিবেদন
২৫মে রবিবার ২৫ অধ্যাপক পান্না কায়সারের জন্মদিন। জন্মদিন স্মরণ করে শিশু কিশোর ভাইবোনরা ছুটে যায় বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাদের প্রিয় মানুষের সমাধিতে । সাথে ছিল খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা, সভাপতিমন্ডলীর -সদস্য হান্নান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফ শোভন, সামিনা জাহান, এ, আদেলসহ অভিভাবক ও সংগঠকবৃন্দ। অধ্যাপক পান্না কায়সার দেশের শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী ও উদার মনের অধিকারি করে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন খেলাঘর আন্দোলনে। তিনি ছিলেন জাতীয় শিশু- কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের চেয়ারম্যান ও দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক। তিনি ছিলেন দেশের সূর্য্য-সন্তান শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সারের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট লেখিকা। তিনি সাহিত্যে বাংলা একাডেমি প্রদত্ত সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষা আন্দোলনঃ সমাজ পরিবর্তনের একটি ধাপ
সাইফ শোভন
১. অনেক প্রকারেই সমাজে পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক দ্ব›দ্ব সংঘাতে এ পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থনৈতিক কারণে এ পরিবর্তন আসতে পারে, এমনকি প্রাকৃতিক কারণেও একটি সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ত্বরিত ঘটে যেতে পারে। আসলে পরিবর্তনের কারণগুলো যেভাবেই দেখা দিক না কেন তা যে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সমাজ পরিবর্তনে ভ‚মিকা রেখে যায়, আধুনিক সমাজ বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করেছেন। আমাদের বাংলাদেশের স্বল্প পরিবারের অভ্যুদয়কালে এগুলো প্রত্যক্ষ করে থাকি।
২. ২. ১৯৫১ সনে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের আইন পাশ হয়। তৎকালীন সরকার জমিদারী ব্যবস্থা দখল করেন “রাষ্ট্রীয় দখল আইন” এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক মুসলীম লীগ এর অধিকাংশ লোক সামন্তবাদী হলেও তাঁরা জমিদারী প্রথাবিরোধী আইন পাশ করেন। কারণ এ দেশীয় সংখ্যায় কম মুসলিম জমিদার, তালুকদার, জোতদার, সংখ্যায় বেশী হিন্দু সামান্তবাদীদেরকে এ অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করে বিতারিত করতে চেয়েছিল জমিদার-তালুকদার বা আইনত জমিদারী তালুকদারী হারালেও কার্ঘত নানা ছলে বলে কৌশলে ধান্ধাবাজী, ভাওতাবাজী করে জমিদারীর সুখ সুবিধা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অধিকাংশ জমিদার তালুকদার হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত বলে, তারা সরাসরি প্রতিরোধ না করে ভারতে চলে যায়। মুসলিম জমিদার তালুকদাররা রয়ে যায় এদেশে। কিন্তু আইন তৈরী করে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের ফলে তাদের শোষণের শিকার কাটা পড়ে। ক্রমান্বয়ে তাদের সামাজিক প্রভ‚ত্বের পায়ের নীচের ভিত্তিটা ধ্বসে যায়; পরিণামে তারা রাজনৈতিকভাবেও দূর্বল হয়ে যায়।
৩. মুসলীম লীগ ক্ষমতাশীল হলেও ওরা কৃষকের বন্ধু নয় শত্রæ- এ তথ্য ততোদিনে কৃষক নি¤œবৃত্ত ও মধ্যবিত্ত জেনে গিয়েছিল। জমিদার তালুকদার তথা তাদের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের প্রতি নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ঘৃণা চাপা থাকেনি। তাদের এই মনে ভাষা আন্দোলন আর কৃষক আন্দোলনের প্রতি অন্য এক রূপে অসীম সহানুভ‚তিতে ফুটে উঠে। যুক্তফ্রন্টের একুশ দফা কর্মসূচীতে রাষ্ট্রভাষা রূপে বাংলার দাবী যেমন ছিল তেমনিই ছিল বিনা ক্ষতিপুরণের জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের দাবী।
৪. ১৯৫২ সনে মুসলিম লীগ সরকারের উজিরে আলা (মূখ্য মন্ত্রী) নুরুল আমিন এর নির্দেশে ভাষা আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। অনেক লোক নিহত ও আহত হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। জনগণ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে। জমিদার তালুকদার অর্থাৎ সামন্তশ্রেণিভুক্ত মুসলিম লীগদের করার কিছুই ছিল না। পাকিস্তানি আমলাতন্ত্রের আশ্রয়ে থেকে তারা ঐ আন্দোলনকে দমাতে চেষ্টা করে।
৫. রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা (আইনগতভাবে) উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া জমিদারী দিয়ে সামাজিক প্রভুত্ত¡ আর বজায় রাখা সম্ভব ছিল না। সমাজের অবাঞ্চিত প্রভ‚ জমিদারদের প্রভাবমুক্ত রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠে। অধিকাংশ জমিদার শ্রেণিবহিভর্‚ত ব্যক্তিবর্গ নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং পূর্ব বাংলার পাতি-সামন্ততান্ত্রিক, পাতিধনিকদের মধ্যে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ; শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এর নেতৃত্বাধীন কৃষক প্রজা পার্টি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির লোকজন নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত একুশ দফা প্রণীত হয়। যুক্তফ্রন্টের একুশ দফঅ কর্মসূচীতে কৃষক শ্রমিক মধ্যবিত্তের নিপীড়ন থেকে মুক্তির দীর্ঘদিনের আশা আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়। ১৯৫৪ সনের পূর্ববঙ্গীয় প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ হেরে যায়।যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। সেই সময়ে পুর্ব বাংলার মুসলিম লীগ দৃশ্যত: উৎখাত হয়ে যায়।
এর পরেও প্রাক্তন জমিদার, তালুকদার ও বড় জোতদাররা রাজনৈতিক ক্ষমতায় ফিরে আসে; কিন্তু ব্যপক কৃষক সমাজের সামাজিক সমর্থনে নয়। সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের পথে এখনও ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এখনোও মুখোশ আর উর্দী পড়ে জমিদার, তালুকদার আর জোতদার অস্ত্রের জোরে কৃষক শ্রমিক আর মেহনতি বুদ্ধিজীবিদের ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে।
৬. ১৯৫১ সনের জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ আইন আর ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন একসূত্রে গাঁথা। একটি ছিল শেকলের একটি প্রন্থিচ্ছেদের ঘটনা। আর একটি ছিল সদ্য শেকলকাটা পাখির পাখা ঝাপটানি। মাতৃ ভাষায় রাষ্ট্রীয় কার্য্যাদি পরিচালনার দাবী আসলে সাধারণ লোকদের দাবী ছোট লোকদের দাবি! বড়লোকদের ভাষা ছিল ফার্সি, আরবী, ইংরেজী সুতরাং বাংলাভাষার আন্দোলন বড় লোকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে, ধনিক তন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন অর্থাৎ জোতদার জমিদারবিরোধী আন্দোলনের সাথেই তা একসূত্রে গাঁথা। ৭. জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ হয়ে গেছে। সামাজিক জীবনে জমিদারদের প্রভাব প্রায় অন্তর্হিত। বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় জীবনে স্বীকৃত; কেবল তাই নয়; বাংলাভাষীদের একটি রাষ্ট্রও গড়ে উঠেছে। এ পরিবর্তন আমাদের প্রজম্মের জীবনকালেই এসেছে। সুতরাং আমাদের জনগণের অধিকাংশের আকাঙ্খার অনুকুলে (আগামী দিনের পরিবর্তন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি) ঘটতে পারে।